প্রতিবেশী রাশেদুল ইসলাম আপেল ও তার স্ত্রী কহিনুর বেগম,
ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,কুড়িগ্রামের চিলমারী প্রতিনিধি, শনিবার ০২ মে ২০২৬ || বৈশাখ ১৯ ১৪৩৩ || ১৪ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি :
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দুই বছর বয়সী শিশু আয়েশা খাতুন হত্যা মামলায় প্রতিবেশী এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রতিবেশী রাশেদুল ইসলাম আপেল ও তার স্ত্রী কহিনুর বেগম শিশুটিকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, খেলতে গিয়ে চোখে আঘাত লাগার ঘটনা আড়াল করতেই শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। শুক্রবার (১ মে) সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া কহিনুর বেগম (২৬) স্বীকার করেছেন যে, ঘটনার দিন সকালে তার আড়াই বছর বয়সী ছেলে আব্দুল্লাহর সঙ্গে খেলছিল আয়েশা। একপর্যায়ে তার ছেলের হাতে থাকা কলম দিয়ে আয়েশার চোখে আঘাত লাগে এবং চোখ দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে।
এতে ভীত হয়ে পড়েন কহিনুর বেগম। ঘটনাটি যাতে বাড়িতে জানাতে না পারে, সেই আশঙ্কায় তিনি শিশু আয়েশাকে নিজের ঘরে নিয়ে গিয়ে মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ একটি ড্রামের ভেতরে লুকিয়ে রাখেন। রাত ১০টার দিকে বাড়ির পাশের একটি পতিত জমিতে শিশুটির মরদেহ ফেলে দেন, যাতে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেয়া যায়।
অন্যদিকে, আয়েশা নিখোঁজ হওয়ার পর দিনভর পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুঁজি করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর তদন্ত শুরু করে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কহিনুর বেগম ও তার স্বামী রাশেদুল ইসলাম আপেলকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও উলিপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম জানান, হত্যার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার যৌথ দল তদন্তে নামে। দ্রুত সময়ের মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন করে মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য কেউ এ ঘটনায় জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
Advertisement

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় আয়েশা খাতুন। পরে রাতে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

প্রতিবেশী রাশেদুল ইসলাম আপেল ও তার স্ত্রী কহিনুর বেগম

