(ভিডিও) আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল শোভা রানীর সাহসিকতা আমাদের পথ দেখায়

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ  ২৪.ম,বিশেষ প্রতিনিধি,বুধবার   ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৬ ১৪৩৩ || ১১ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি :

’৯১-এর প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচিয়ে ‘লেডি অব আইল্যান্ড’ উপাধি পেয়েছিলেন তিনি। এই শিরোনামে তার ওপর তৈরি করা প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়েছিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। আর এরই সূত্র ধরে উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় সাইক্লোন শেলটার নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ পেয়েছিল অনুদান। আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিলে মনে পড়ে সেই শোভা রানীর কথা।

 

শোভা রাণীর বাড়ি কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলা সদরে। বাড়ি কিংবা সন্তানসহ স্বজনদের দূরে রেখে পশ্চাৎপদ দ্বীপ সোনাদিয়ার শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়ে দিয়েছেন। তার কাজের সহযোগী স্বামী শচিরাম দাস। তিনিও এখানে শিক্ষকতার চাকরি নেন। ’৯১-এর ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলেন শোভা রাণী। সোনাদিয়া দ্বীপে রেডক্রিসেন্ট ওয়্যারলেসের দায়িত্বে ছিলেন শচিরাম। বিশেষ প্রয়োজনে এলাকার বাইরে থাকায় এই দায়িত্ব পড়ে শোভা রাণীর ওপর। ওয়্যারলেস অপারেট কিংবা রেডক্রিসেন্টের অন্যান্য কাজের তারও প্রশিক্ষণ ছিল। সেগুলোই কাজে লাগালেন। মানুষকে বাড়ি থেকে সাইক্লোন শেলটারে নিয়ে আসাই ছিল তার লক্ষ্য।

Advertisement

অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————

 

সে দিনের গল্প বলতে গিয়ে শোভা রাণী বলেন, ‘ছোট মেয়ে দু’টোকে খাটের সঙ্গে বেঁধে নিজের কাপড় শক্ত করে কোমরে বেঁধে লোকজনকে শেলটারে তুলি। মানুষ ছিল অসচেতন। তাদের ঘর থেকে বের করা ছিল কঠিন কাজ। তারা ঘর থেকে বের হতে চায়নি। সংকেত আর সাইরেন বাজালেও কেউ আমলে নেয়নি। শেষ মুহূর্তে হঠাৎ পানি বাড়লে সবাই বিপদে পড়ে। মাত্র ১০জন স্বেচ্ছাসেবকের সহায়তায় প্রায় সব মানুষকেই সেদিন উদ্ধার করি।’

 

বিপন্ন দ্বীপ সোনাদিয়া

 

ওই ঘূর্ণিঝড়ে দ্বীপের প্রায় সব বাড়িঘর নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলেও একজন লোকও মারা যায়নি। তবে পরের দিনের গণমাধ্যমে খবর বের হয় সোনাদিয়া দ্বীপে কোনো মানুষ বেঁচে নেই। এই খবর পেয়ে জার্মান রেডক্রস, জাপান রেডক্রস ও বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্টের যৌথ টিম আসে সোনাদিয়া দ্বীপে। তারা এসে দেখেন এখানকার একজন মানুষও মারা যায়নি। শোভা রাণীর কাছ থেকে তারা শোনেন এখানকার লোকজনকে বাঁচানোর গল্প। আর এই অভিজ্ঞতার আলোকেই তৈরি হয় প্রামাণ্যচিত্র ‘লেডি অব আইল্যান্ড’। প্রামাণ্যচিত্রটি সেসময় দেশে-বিদেশে আলোচিত হয়েছে। বিনিময় হয়েছে দুর্যোগ মোকাবেলার অভিজ্ঞতা। কিন্তু সেই ‘লেডি অব লাইল্যান্ড’ শোভা রাণী সারাজীবন বিপদাপন্নতার সঙ্গে লড়াই করেই টিকে ছিলেন।

চাকরির সুবাদে সোনাদিয়া এসেছিলেন শোভা রাণী। বিচ্ছিন্ন এই দ্বীপের শিক্ষা প্রসারে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি একটি স্কুল গড়ার উদ্যোগ নেয় ১৯৮৭ সালে। কিন্তু শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছিল না। একটি সার্কুলার দেওয়া হয়। আগ্রহী হন শোভা রাণী। যথারীতি আবেদন করেন। কিন্তু চাকরি হলে একা কিভাবে এই দ্বীপে থাকবেন। সেই ভাবনা থেকে শচিরাম দাসও ওই স্কুলের শিক্ষকের পদে আবেদন করেন। স্কুল পরিচালনার সুবিধার্থে দু’জনেরই চাকরি হয়। ১৯৮৮ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে শিক্ষানুরাগী এই দম্পতি এই দ্বীপে অবস্থান করছেন। দু’জন মিলে এখানকার ছেলেমেয়েদের স্কুলমূখী করার উদ্যোগ নেন। পাশাপাশি রেডক্রিসেন্টের ওয়্যারলেস অপারেটরের দায়িত্বও নেন তারাই। এখানকার মানুষের সংস্কৃতি আর সমস্যা-সংকটের সঙ্গে মিশে যান এই শিক্ষক দম্পতি। দ্বীপের পূর্বপাড়ায় স্কুলের পাশে একখণ্ড জমিতে একটি খড়ের ঘরে তাদের বাস। শিক্ষকতার সুবাদে এলেও দ্বীপের মানুষের ‘দাদা’ আর ‘দিদি’ হয়ে ওঠেন শচিরাম দাস ও শোভারাণী। দ্বীপের মানুষের সঙ্গে নিবিড় সখ্য গড়ে ওঠে।

 

প্রস্তুতি জোরদার করতে হবে 

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি নিয়ে কথা তো কম হলো না। সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে আলোচনাও হলো বিস্তর। ১৯৯১ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে এ বিষয়ে ঝুলিতে অভিজ্ঞতাও জমেছে অনেক। কিন্তু কাজের কাজ কতটা হলো? ঘূর্ণিঝড়ের দিন এলে কিংবা নতুন করে কোনো ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে ঘুরে ফিরে প্রসঙ্গ একটাই- নিরাপত্তাহীন উপকূল; অরক্ষিত উপকূল। পাশের দেশ কিংবা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের বেড়িবাঁধ ব্যবস্থাপনার কলাকৌশল দেখে আমরা কেন উপকূলের বেড়িবাঁধ টেকসই করতে পারছি না? কেনই বা ‘বাঁশের নিরাপত্তা’ দিয়ে বেড়িবাঁধ টিকিয়ে রাখতে হচ্ছে? প্রশ্নগুলোর জবাব মেলে না।

 

শচিরাম দাস-এর সাথে সোনাদিয়ায় নিজের ঘরের সামনে শোভা রানী

 

উপকূলের নাজুক বেড়িবাঁধ কিংবা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ত্রুটির কথা বলা হয়েছে বহুবার। মাঠ ঘুরে এমন চিত্রটাই আসলে বারবার চোখে পড়ে। এবার ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় দিবসেও সেই কথাটাই বলতে হচ্ছে। ওই বছরের ২৯ এপ্রিল পূর্ব-উপকূলের ওপর দিয়ে এই ঝড় বয়ে যায়। ‘ম্যারি এন’ নামের এই প্রলয়ঙ্ককরী ঘূর্ণিঝড়ে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৩৮ হাজার হলেও বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা দ্বিগুণ। মারা যায় ২০ লাখ গবাদি পশু। গৃহহারা হয়েছিলেন ৫০ লাখ মানুষ। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে লন্ডভন্ড হয়েছিল মহেশখালী, কুতুবদিয়া, বাঁশখালী, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কক্সবাজার, চট্টগ্রামের ৩০০ কিলোমিটার এলাকা। ঘূর্ণিঝড়ের দিন এলে উপকূলের সুরক্ষার তাগিদ ওঠে। নতুন করে আলোচনা হয়; বহুমূখী দাবি ওঠে।

উপকূল ঘুরে দেখি, যে স্থানে ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল ঘূর্ণিঝড় আঘাত করেছিল; সে স্থানে বাঁশের বেড়া আর বালুর বস্তা ফেলে কোথাও বেড়িবাঁধ রক্ষার চেষ্টা চলছে। আবার কোথাও যথাযথ কাজ না হওয়ায় কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেও বাঁধ টিকিয়ে রাখা যাচ্ছে না। কোথাও খুব নাজুকভাবে মাটি ফেলে বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয়কেন্দ্র সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। বহু গ্রাম থেকে সাইক্লোন শেল্টার অনেক দূরে। কোথাও আশ্রয় নেওয়ার জন্য একটা শেল্টার নির্মাণ করা হলেও সেখানে পৌঁছানোর মতো রাস্তা হয়নি। আবার অনেক স্থানে নেই সবুজবেষ্টনীর নিরাপত্তা।

শক্ত ও উঁচু বেড়িবাঁধ দাবি

১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল দেশের পূর্ব-উপকূলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার চিত্র এমনটাই। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, কাঠগড়, সীতাকুণ্ড, সন্দ্বীপ, কুমিরা, বাঁশখালী, কক্সবাজারের চকরিয়া ঘুরে মিলেছে মানুষের সংকটের চিত্র। সেই প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের ৩৫ বছর পরেও উপকূলের মানুষের বিপন্নতা কাটেনি। শক্ত ও উঁচু বেড়িবাঁধের দাবি উপকূলীয় এলাকার মানুষদের। বড় ধরনের ঝড় এলে ধ্বসে যাবে নাজুক বাঁধ। যেসব স্থানে বাঁধ নেই সেসব স্থানের মানুষ আবারও ভাসবে। ২৯ এপ্রিলের প্রলয়ে এই এলাকাটি ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। দু’বছর আগে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু আবারও মাটির সাথে মিশিয়ে দেয় কুতুবদিয়ার একাংশ।

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তের মানুষেরা ঝুঁকির মুখে থাকেন দুর্যোগ মৌসুমে। পশ্চিমে রহমতপুর ইউনিয়নের প্রায় চার কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। গত বর্ষায় সন্দ্বীপের একাধিক স্থানে বাঁধ ভেঙে ব্যাপক ক্ষতি হয়। একই অবস্থা চোখে পড়ে সন্দ্বীপের বাংলাবাজার, সারিকাইত, আজমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায়। সন্দ্বীপের চারিদিকে বেড়িবাঁধ পুনঃনির্মাণের একটি বৃহৎ কর্মসূচি শুরু হলেও কাজ চলছে ধীর গতিতে। বাঁধ পুনঃনির্মাণ প্রকল্প শুরু হওয়ায় কয়েকটি স্থানে বাঁধের বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবারের বর্ষায় তাদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করবে।

পূর্ব থেকে আমরা যদি পশ্চিমে চোখ ফেরাই, সেখানে একই অবস্থা। পশ্চিম-উপকূলের সিডর বিধ্বস্ত জনপদ শরণখোলার মানুষ কিন্তু এখনও পুরোপুরি নিরাপদ জীবনযাপন করতে পারছে না। এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে তাদের মাঝে। তাফালবাড়িয়া ও বগী এলাকার বেশ কিছু মানুষের সঙ্গে আলাপ করে জানতে পারি, তারা বেশ ঝুঁকিতে বসবাস করছেন। সিডরের পর অনেক কাজ এখানে হয়েছে। উপজেলার চারিদিকে বৃহৎ বাঁধ নির্মাণ পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু এই কাজ যে কবে নাগাদ শেষ হবে, তা কেউ বলতে পারছেন না। অন্যদিকে বাঁধ নির্মাণকালেই একাধিকবার ধ্বসে পড়েছে। নদীশাসন না হওয়ায় বাঁধ নির্মাণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি

শুধু বাঁধের কথাই বা বলি কেন, দুর্যোগের ছোবল থেকে উপকূলীয় অঞ্চল রক্ষায় নেই প্রয়োজনীয় বন। ২৯ এপ্রিলের প্রলয় যেখানে আঘাত করেছিল; সে এলাকায় এমন চিত্র পাওয়া যায়। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত থেকে মুসলিমাবাদ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে কিছু গাছ রয়েছে। পরবর্তী আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় কোনো বনায়ন নেই। হালিশহর আনন্দবাজার এলাকায় কিছু বনায়ন থাকার পর কাট্টলী এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে কিছু বনায়ন রয়েছে। আর বাকি সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় সবুজ বেষ্টনীর চিহ্ন মাত্র নেই। কক্সবাজারের চকরিয়ার বদরখালী, পেকুয়ার উজানটিয়া, কুতুবদিয়ার তাবালরচর, ধূরুং এলাকায়ও খুব একটা গাছপালা চোখে পড়ে না। অথচ ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে এ এলাকা বিরাণ হয়ে গিয়েছিল। কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় ছিল চকরিয়া সুন্দরবন। কিন্তু কালের বিবর্তনে বনটি উজাড় হয়ে যাওয়ায় ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়টি ওই এলাকায় প্রচন্ডভাবে আঘাত করে। তখন ওই বনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন এলাকার মানুষ। বদরখালী বাজারে আলাপকালে অনেকেই বলছিলেন, ওই বনটি থাকলে ঘূর্ণিঝড়ে এই এলাকার এত ক্ষতি হতো না।

দ্বীপ সোনাদিয়ার মানুষ লড়াই করে টিকে থাকে

প্রলয়ঙ্করী সেই ঘূর্ণিঝড়ের ২৭ বছর পরেও উপকূলের মানুষ দুর্যোগ থেকে বাঁচার নিরাপত্তা চেয়েই সরকারের কাছে দাবি তুলেছেন। সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড, পতেঙ্গা, চকরিয়া, কুতুবদিয়া এলাকার ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত মানুষদের কাছে এখনও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের দাবিটাই প্রধান হয়ে আছে। তারা বলেন, যা হারিয়েছি, তা কেউ ফেরত দিতে পারবে না। বাকি জীবনটা বেঁচে থাকার নিরাপত্তা চাই। শুধু ঘুর্ণিঝড়ের আগে-পরে নয়, সারাবছরই সরকারের সুনজর চাই।

আরো সজাগ হই, সচেতন হই

উপকূলের মানুষকে দুর্যোগ থেকে বাঁচাতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যে প্রতিবছরই বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করা হয়। দিনটি উপলক্ষ্যে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে পালিত হয়

বিভিন্ন কর্মসূচি। উপকূল নিয়ে কর্মরত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কোস্টট্রাস্ট প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কর্মসূচি পালন করছে। এ সংগঠন থেকে বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: দুর্যোগ ও জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে; জাতিসংঘ সংস্থা ও আইএনজিওদের সরাসরি প্রকল্প পরিচালনা থেকে সরে আসতে হবে এবং স্থানীয় এনজিওদের নেতৃত্ব প্রদানে সুযোগ দিতে হবে; চরের মানুষের উপযোগী জীবিকায়ন কর্মকাণ্ডে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা বাড়াতে হবে; চর এবং উপকূলীয় এলাকায় বেশিসংখ্যক কমিউনিটি রেডিও অনুমোদন দিতে হবে; দুর্যোগকালীন বিকল্প জ্বালানীর ব্যবস্থা করতে হবে; লোনা পানির অনুপ্রবেশ রোধ এবং মিঠা পানির বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে; ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলন কমিয়ে ভূউপরিস্থ পানির সঞ্চয় বৃদ্ধির ব্যবস্থা নিতে হবে; পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল কাজে জনঅংশগ্রহণ সুযোগ বাড়াতে হবে; কুতুবদিয়া ও ভোলা দ্বীপের জমি ও মানুষের সুরক্ষায় অগ্রাধিকার ভিত্তিক পরিকল্পনা নিতে হবে; কংক্রিট ব্লক/ সী-ডাইক পদ্ধতিতে  স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে; রোহিঙ্গা আগমনে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠির জন্য ক্ষতিপুরণ বাজেট চাই; ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে কার্যকর করতে হবে; উপজেলা প্রশাসনকে কর্তৃত্ব দিয়ে জেলে নৌকার রেজিস্ট্রেশন নিশ্চিত করতে হবে।

Advertisement

আসুন, আমরা আরও সজাগ হই; সচেতন হই। উপকূলজুড়ে স্বজনহারা মানুষের জীবনব্যাপী কান্না হয়তো থামানো যাবে না। তবে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সহানুভূতিটুকু জানানো যাবে। যে মানুষটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে স্বজনদের হারিয়ে নির্বাক পথে দাঁড়িয়েছিলেন; সেই মানুষটিকে অন্তত এই সান্ত্বনাটুকু দেওয়া যেতে পারে, এভাবে আর কারও কান্না তাকে দেখতে হবে না। শক্ত, উঁচু, টেকসই বেড়িবাঁধ উপকূলের মানুষের অধিকার। নিরাপদে নিশ্চিন্তে বসবাস তার অধিকার। তার অধিকারটুকু ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগী হই।

আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল শোভা রানীর সাহসিকতা আমাদের পথ দেখায়