ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি,বুধবার ২২ এপ্রিল ২০২৬ || বৈশাখ ৯ ১৪৩৩ || ৪ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি :
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের জের ধরে হরমুজ প্রণালি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে ইরান। দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) এর অনুমতি না পেয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারছে না বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান রোববার (১৯ এপ্রিল) রাতে তুরস্কে এক বৈঠকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদহকে জাহাজটির হরমুজ প্রণালি নিরাপদে পার হতে সহায়তার অনুরোধ করেছেন বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
Advertisement
অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————
এদিকে ক্যামেন আইল্যান্ডের পতাকাবাহী একটি জাহাজ সৌদি আরবের জুয়াইমাহ টার্মিনাল থেকে অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড ওয়েল নিয়ে চট্টগ্রামে আসার কথা থাকলেও ইরানের অনুমতি না পাওয়ায় সেটিও আসতে পারেনি বলে জানা গেছে।
এপ্রিলের শুরুতে ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত হরমুজ প্রণালি পার হতে অনুমতির অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশি জাহাজকে সহায়তার কথা বলেছিলেন। এর আগে মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দিয়ে বলেছিলেন যে, বাংলাদেশসহ ৬টি দেশের জাহাজ চলাচল করতে পারবে।
এরপর দুই দফায় চেষ্টা করেও হরমুজ পার হতে ইরানি নৌ বাহিনী ও আইআরজিসির অনুমতি না পেয়ে ৩৭ হাজার টন সারসহ এখন সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বন্দরের কাছে অবস্থান করছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, জাহাজটিকে হরমুজ পার করানোর জন্য ইরানের অনুমোদন পেতে কূটনৈতিক চ্যানেলে জোর তৎপরতা চলছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে যে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সাথে ইরানের ঐতিহাসিক সহযোগিতামুলক সম্পর্ক থাকার পরেও বাংলাদেশি জাহাজকে হরমুজ পার হতে ইরান কেন বাধা দিচ্ছে।
এমন এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবির বলছেন, কোনও দেশে আক্রমণ বাংলাদেশ সমর্থন করে না- এই নীতিই বাংলাদেশ সবসময় অনুসরণ করে আসছিল কিন্তু এবার সেভাবে হয়নি বলেই হয়তো বিভ্রান্তির অবকাশ তৈরি হয়েছে।
ঢাকায় কূটনৈতিক সূত্রগুলো যে ধারণা দিচ্ছে তা হলো ইরানে হামলার ঘটনা ও আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর বাংলাদেশ সরকারের বিবৃতি তেহরানকে ক্ষুব্ধ করেছে, যা ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত নিজেও বলেছেন। মূলত এ কারণেই ইরানের নৌ-বাহিনী হরমুজ পার হতে বাংলাদেশি জাহাজকে অনুমতি দিচ্ছে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার বিষয়ে মার্চ মাসে বাংলাদেশ সরকার একটি বিবৃতি দিয়েছে, যেখানে ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের ‘কয়েকটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে’ দাবি করে এর নিন্দা জানায় বাংলাদেশ সরকার।
কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের ওই বিবৃতিতে কোথাও যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের নামও উল্লেখ করা হয়নি। সেই সঙ্গে ইরানে হামলার ঘটনায়ও কোনও নিন্দা জানানো হয়নি।
এ নিয়ে দেশের ভেতরে তীব্র সমালোচনা দেখা দিলে ২রা মার্চ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাঁচ লাইনের আরেকটি বিবৃতি দিয়ে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন উল্লেখ করে ইরানের ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ জনগণের প্রতি শোক প্রকাশ করে।
ঢাকায় কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের খামেনির মৃত্যুর বিষয়ে যথাযথ শোক না জানানো ও দূতাবাসে শোক বইতে কোনো কর্মকর্তা গিয়ে স্বাক্ষর না করার ঘটনা ইরানিদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।
ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমী জাহানাবাদী বেসরকারি একটি টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিজেই এ তথ্য জানিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে বলেন যে, বাংলাদেশের বিবৃতিতে তেহরান সন্তুষ্ট নয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ যে বিবৃতি দিয়েছে তাতে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়নি। এ সময় তিনি স্পেনের মত ইউরোপীয় দেশ ও আমেরিকার ভেতরে জনগণের যুদ্ধবিরোধী মিছিল ও সমালোচনার উদাহরণ দেন। সে আলোকে তিনি বাংলাদেশও সুস্পষ্ট অবস্থান নিবে বলে আশা করেন।
ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বলছে, মূলত যুদ্ধকেন্দ্রিক বাংলাদেশের অবস্থানটিই ইরানকে ক্ষুব্ধ করেছে, যা এখন সামাল দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত ইরান দূতাবাস। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে দূতাবাস জানায়, বাংলাদেশের জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিতে ইরান কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে যুক্ত করা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত সহজ করার বিষয়ে ইরান আন্তরিকভাবে উদ্যোগী। একই সঙ্গে এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নির্বিঘ্ন রাখার বিষয়েও তারা গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে গত ২৬ জানুয়ারি। এরপর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দরে পণ্য নিয়ে যায় জাহাজটি। পরে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কাতারের একটি বন্দর থেকে প্রায় ৩৯ হাজার মেট্রিক টন স্টিল কয়েল নিয়ে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে গিয়েছিল এমভি বাংলার জয়যাত্রা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরুর পর ওই বন্দরে জাহাজটির দুশো মিটারের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। এর মধ্যেও সেখানে পণ্য খালাস শেষে জাহাজটির পরবর্তী গন্তব্য ভারতের মুম্বাই বন্দর ঠিক হলেও আরব আমিরাতের কোস্ট গার্ডের নিরাপত্তার কথা জানিয়ে বাধা দিলে জাহাজটি গভীর জলসীমায় অবস্থান নেয়।
Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের যুদ্ধবিরতি শুরু হলে ৮ এপ্রিল হরমুজ প্রণালি পার হতে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল জাহাজটি। কিন্তু ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পাওয়ায় তখন জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পার হতে পারেনি।
পরে ইরান আবার হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেয়ার ঘোষণা দিলে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজটি হরমুজের দিকে রওনা হয়। কিন্তু হরমুজ প্রণালির ২০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে যাওয়ার পর ইরানের নেভি জাহাজটির হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।



