ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,ঢাকার শ্যামলী প্রতিনিধি ,শনিবার ১১ এপ্রিল ২০২৬ || চৈত্র ২৮ ১৪৩২ || ২২ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি :
“আমি এখানকার ওসি সাহেবকে বলছি, এসপি সাহেবকে বলছি, একজন ডিআইজি সাহেবকে বলছি, একজন অতিরিক্ত আইজি সাহেবকেও বলছি। কিন্তু সে নাকি কথা শোনে না।”
ঢাকার শ্যামলীতে আলোচিত কিডনি চিকিৎসক কামরুল ইসলামের হাসপাতালে যুবদল নেতা পরিচয় পাঁচ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠার পর গভীর রাতে সেখানে গিয়ে কথা বলেছেন যুবদলের শীর্ষ নেতারা।
Advertisement
অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————
যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নসহ একটি প্রতিনিধি দল শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালে গিয়ে অধ্যাপক কামরুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করেন।
স্বল্প খরচে কিডনি চিকিৎসা ও প্রতিস্থাপনের জন্য অধ্যাপক কামরুলের পরিচিতি রয়েছে। তার হাসপাতালে যুবদল পরিচয়ে স্থানীয় মঈন নামে এক ব্যক্তি ৫ লাখ টাকা দাবি করেছে বলে সন্ধ্যায় দৈনিক কালের কণ্ঠ’র ফেেইসবুক পেজে একটি সংবাদ প্রচারিত হয়। এরপর রাতেই যুবদল নেতারা শ্যামলীর ওই হাসপাতালে আসেন। তারা অধ্যাপক কামরুল ইসলামের কাছে ঘটনা জানতে চান, তাকে আশ্বস্ত করেন।
অধ্যাপক কামরুল ইসলাম বলেন, “৫ অগাস্ট পর শ্যামলীর চার নম্বর রোডের বাসিন্দা মঈন নামে এক ব্যক্তি হাসপাতালে খাবার সরবরাহের ঠিকাদারির কাজ নেয়। কিন্তু মঈন খাদ্যপণ্যের অনেক বেশি দাম ধরছিলেন দেখে তাকে সম্প্রতি বাদ দেওয়া হয়।”
অধ্যাপক কামরুল ইসলাম যুবদল নেতাদের বলেন, “আমি আমার রোগীদের খাবারের কোনো বিল ধরি না। এখানকার স্টাফরাও হাসপাতালে খাবার খায়। একটা মিনিমাম মার্জিনে আমরা হাসপাতালটা চালাই। ও খাবারদাবারের অনেক বেশি টাকা দাম ধরছিল বলে তাকে বাদ দেওয়া হয়।
“আমি নিজে কৃষি মার্কেটে গিয়ে তদারকি করে জিনিসপত্র কিনে আনি। এরপর সে লোকজন নিয়ে এসে হাসপাতালের স্টাফদের সঙ্গে উচ্চবাচ্য শুরু করে, টাকা চায়।”
ওই ব্যক্তি কি নিজেকে যুবদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন কি না, জানতে চান সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুন্না।
এ সময় অধ্যাপক কামরুল বলেন, “সে বলছে সে যুবদলের নেতা, কাউন্সিলর ইলেকশন করতে চায়। আমি বিষয়টা নিয়ে জিডি করছি, এখানকার নেতাদের জানাই। কিন্তু তার এত বিরাট প্রভাব যে কেউ কিছু করেনি।”
পরে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন বলেন, “আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি ও আসলে আমাদের সংগঠনের কেউ না। এরা আমাদের সংগঠনের নাম ভাঙ্গায়। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন এসব বিষয়ে জিরো টলারেন্স। এসব ঘটনা ঘটলে আমরা কিন্তু কাউকে ছাড় দেই না।
“আগের আমলে যেরকম এ ধরনের ঘটনাগুলোকে অস্বীকার করা হয়েছে, আমরা কিন্তু সেটাও করি না। আমরা আমাদের অনেক নেতাকর্মীকে সাজা দিয়েছি, প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি, কাউকে কাউকে পুলিশে ধরিয়েও দিয়েছি।”
পরে নয়ন তার ফোন থেকে র্যাবের একজন কর্মকর্তাকে ফোন করে মঈন নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের অনুরোধ করেন। স্পিকারে রাখা নয়নের ফোন থেকেই র্যাবের কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন কামরুল ইসলাম।
পরে অধ্যাপক কামরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “আমার এখানে স্টাফ রাত তিন বেলা খাবার খায়, রোগীদেরও তিন বেলা খাবার দেওয়া হয়। আমি রোগীদের কাছ থেকে খাবারের বাড়তি কোনো বিল নেই না; ওটা বেড ভাড়ার মধ্যেই আমরা অ্যাডজাস্ট করে দেই।
“আমাদের রোগীদের বেশিরভাগই গ্রাম থেকে আসা, তাদের যে খাবারটা দিতে আমার হয়তো ২০০ টাকা খরচ হয়, সে খাবারটা বাইরে কিনে খেতে গেলে তাদের হাজার টাকা খরচ হতো। সেই চিন্তা থেকেই এটা করা। হাসপাতালের একটা ক্রয় কমিটি আছে, যারা সবচেয়ে কম দরে যার কাছে পান- তার কাছ থেকে কেনাকাটা করেন।
“কিন্তু এই ছেলেটা এসে ৬৬ টাকা কেজি যে চালের, তার বিল করছিল ৭৭ টাকা করে। ১০০০ ডিমের দাম নিচ্ছিল সাড়ে নয় হাজার টাকা, যেটা আমি নিজে গিয়ে ৮১০০ টাকায় ওই দোকান থেকেই নিয়ে এসেছি। এভাবে না কিনলে তো আমার পক্ষে চালানো সম্ভব না।”
অধ্যাপক কামরুল বলেন, “আমার স্টাফরা যখন তার কাছ থেকে কেনাকাটা বন্ধ করে দিতে গেল, তখন শুরু হলো হুমকি। তাকে তুলে নিয়ে যাবে, এই করবে, সেই করবে। হঠাৎ করে একদিন বলা শুরু করল, একজনের কাছে সে পাঁচ লাখ টাকা পায়- সে টাকা দিতে হবে।
“আমার হাসপাতালে তাকে ভয় পেত। সে বেশ লম্বাচড়া, সাথে কয়েকজনকে নিয়ে আসতো, আবার বলত যুবদল কর্মী; যার কারণে তাকে তো কিছু বলাও যায় না। হাসপাতালের সিকিউরিটির লোকেরাও তাকে ভয় পেত।”
তিনি বলেন, “তো আজকে সে যেটা করেছে, আমার একটা স্টাফের বাসায় গিয়ে ভোর বেলায় তাকে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছে। আমার স্টাফ একটা ঘরে লুকিয়ে ছিল। আমি পুলিশকে ফোন করেছি, সেনাবাহিনীকে ফোন করেছি। শুধু পুলিশ এসেছিল।
“ওর নামে আগেও জিডি করা ছিল। কিন্তু পুলিশ যে তাকে ধরবে বা নিয়ে যাবে- এরকম কোনো তৎপরতা ছিল না। তারা কী তাকে ভয় পায় কি না, জানি না।”
অধ্যাপক কামরুল ইসলাম বলেন, “হাসপাতালের যে স্টাফ এর সঙ্গে এরকম করা হচ্ছিল, সে এখানে ৩০ বছর ধরে কাজ করে। অপারেশন থিয়েটারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্টাফ সে।
“এখন তার দাবি হচ্ছে হয় ওই স্টাফকে বের করে দিতে হবে; আর না হয় তাকে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে। আর নাহলে তাকে আবার ঠিকাদারির কাজ ফিরিয়ে দিতে হবে।”
চিকিৎসক কামরুল বলেন, “যুবদল পরিচয় দেওয়া ছেলেটা ৫ অগাস্টের পর থেকে এখানে সাপ্লাই করতেছিল। তবে তখন সে এত অ্যাগ্রেসিভ ছিল না। এই গত একমাস হবে, সে হঠাৎ করে খুব অ্যাগ্রেসিভ হয়ে ওঠে।
Advertisement

“দেখেন আমি কতজনকে বলছি। আমি এখানকার ওসি সাহেবকে বলছি, এসপি সাহেবকে বলছি, একজন ডিআইজি সাহেবকে বলছি, একজন অতিরিক্ত আইজি সাহেবকেও বলছি। কিন্তু সে নাকি কথা শোনে না।”
জানতে চাইলে শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম শনিবার সকালে বলেন, “এ বিষয়ে তাদের একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে অভিযোগ না পেলেও আমরা অভিযুক্ত মঈন উদ্দিনক গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”



