ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি,বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ ২০২৬ || চৈত্র ৬ ১৪৩২ || ২৯ রমজান ১৪৪৭ হিজরি :
ইরানে ‘সাউথ পার্স’ গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলের হামলা
ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে গতকাল বুধবার ভোরে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ও ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম এ খবর জানিয়েছে।
এদিকে ওই হামলার পর সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাঁচটি প্রধান তেল স্থাপনার কাছের এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষকে অবিলম্বে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর।
কাতারের এলএনজি স্থাপনায় আবার হামলা হলে ইরানের পুরো গ্যাসক্ষেত্র উড়িয়ে দেব: ট্রাম্প

কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থাপনায় ইরান যদি আর কোনো প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়, তবে দেশটির পুরো ‘সাউথ পার্স’ গ্যাসক্ষেত্র ‘বিশাল বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তাঁর নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে এ হুমকি দিয়েছেন।
পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেছেন, ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলের আগের হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা কাতার ‘কিছুই জানত না’। তিনি বলেন, ইসরায়েল ওই গ্যাসক্ষেত্রে ‘আর কোনো হামলা চালাবে না’—যদি ইরান ‘সম্পূর্ণ নির্দোষ একটি দেশ, কাতারের ওপর হামলার সিদ্ধান্ত না নেয়’।
ট্রাম্প বলেন, ‘সে ক্ষেত্রে (কাতারে গ্যাসক্ষেত্রে আবার হামলা করলে) ইসরায়েলের সহায়তা বা সম্মতি থাকুক আর না থাকুক, যুক্তরাষ্ট্র একাই পুরো সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রকে এমন শক্তিশালী ও প্রচণ্ড মাত্রার বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেবে, যা ইরান এর আগে কখনো দেখেনি বা প্রত্যক্ষ করেনি।’

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এই পর্যায়ের সহিংসতা বা ধ্বংসযজ্ঞের অনুমতি দিতে চাই না। কারণ ইরানের ভবিষ্যতের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে। কিন্তু কাতারের এলএনজি স্থাপনায় যদি আবার হামলা হয়, তবে আমি এটি করতে দ্বিধা করব না।’
ট্রাম্পের এ পোস্টের আগে বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার ভোরে তাদের বেশ কয়েকটি এলএনজি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এতে সেখানে ‘বড় ধরনের আগুন’ লাগার পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কাতার এনার্জির এ বক্তব্যের আগে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরান ও কাতারের যৌথ মালিকানাধীন ‘সাউথ পার্স’ বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র এবং এটি ইরানের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি শক্তির সবচেয়ে বড় উৎস।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
কাতারে এলএনজি উৎপাদন ক্ষেত্রে আবার হামলা, বড় অগ্নিকাণ্ড

কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির কয়েকটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন ও রপ্তানি স্থাপনায় আবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
Advertisement
অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————
আজ বৃহস্পতিবার ভোরে ইরানের এ হামলায় স্থাপনাগুলোতে ‘বড় ধরনের আগুন’ লাগার পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতার এনার্জি।
রাষ্ট্রায়ত্ত এ জ্বালানি কোম্পানিটি জানিয়েছে, হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি উদ্ধারকারী দল তাৎক্ষণিকভাবে মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি জানিয়েছে, ওই হামলায় তাদের ‘পার্ল জিটিএল’ (গ্যাস-টু-লিকুইডস) স্থাপনার ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

সৌদি জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের হামলা ‘ব্ল্যাকমেইল’: সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ বলেছেন, সৌদি জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো ইরানের হামলা ছিল একটি ‘সুস্পষ্ট ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা’।
এর আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল যে, রিয়াদে আঞ্চলিক ও ইসলামি দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি সম্মেলন শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে রিয়াদ অভিমুখী চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমার কাছে এটি পরিষ্কার যে, আজকের এই হামলার সময়টি সম্মেলনের সাথে মিলিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল উপস্থিত প্রতিনিধিদের ভয় দেখানো এবং এই বার্তা দেওয়া যে ইরান থামবে না।’
প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ আরও বলেন, ‘আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি, আমরা ভয় পাইনি। ইরান যখন এ ধরনের আচরণ করে, তখন তারা কোনোভাবেই বৈধ অংশীদার হতে পারে বলে আমরা বিশ্বাস করি না। সামান্য যেটুকু আস্থা অবশিষ্ট ছিল, তা এখন পুরোপুরি ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।’
সূত্র: আল–জাজিরা
ইরানের জ্বালানি ক্ষেত্রে আর কোনো হামলা চান না ট্রাম্প
ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে আর কোনো নতুন হামলা হোক, এমনটি চান না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার ইসরায়েল ইরানের অন্যতম বৃহৎ ‘সাউথ পার্স’ গ্যাসক্ষেত্রের স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানার পর তাঁর এই অবস্থানের কথা জানা গেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে এই খবর প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে যান চলাচলে বাধা দেওয়ার চেষ্টার জবাবে তেহরানকে একটি কড়া বার্তা দিতে ট্রাম্প বুধবারের হামলাকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। তবে সেই উদ্দেশ্য সফল হওয়ার পর তিনি আপাতত পরবর্তী যেকোনো পদক্ষেপের বিরোধী।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তবে এই অবস্থান চূড়ান্ত নয়। তেহরান যদি পুনরায় ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তবে ট্রাম্প আবারও ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার অনুমতি দিতে পারেন।
সূত্র: দি গার্ডিয়ান
রাস লাফান শিল্পনগরীতে হামলার পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সাথে টেলিফোনে কথা বলেছেন।
কাতারের বিশাল প্রাকৃতিক গ্যাস খনির কেন্দ্রস্থল রাস লাফানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে মাখোঁ বলেন, বেসামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে জ্বালানি এবং পানি সরবরাহ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হামলাগুলোর ওপর অবিলম্বে বিরতি টানা আমাদের সকলের সাধারণ স্বার্থের বিষয়।’
মাখোঁ আরও লিখেছেন, ‘বেসামরিক জনগণ এবং তাদের মৌলিক চাহিদাগুলোর পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তাকে অবশ্যই সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি থেকে রক্ষা করতে হবে।’
সূত্র: আল–জাজিরা

ফিলিস্তিনের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন সংলগ্ন বেইত আওয়ায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ায় তিন ফিলিস্তিনি নারী নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এদিকে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলের মোশাভ আদানিমে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড অ্যাডমের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তি একজন ‘বিদেশি কর্মী’, যাঁর বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। তাঁর শরীরে ক্ষেপণাস্ত্রের স্প্লিন্টারের আঘাত পাওয়া গেছে।
সূত্র: আল–জাজিরা

ইসরায়েলের বিমান হামলায় লেবাননের পূর্বাঞ্চলের চাত শহরের কাছে ছয়জন নিহত হয়েছেন। লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থার (এনএনএ) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধারকারী দলগুলি বর্তমানে ধ্বংসস্তুপের নিচে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া বেশ কয়েকজন ব্যক্তির সন্ধান করছে।
সূত্র: আল–জাজিরা

ইরান দূতাবাসের সামরিক কর্মকর্তা–কর্মচারীদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা কাতারের
কাতার ইরানের দূতাবাসের সামরিক, নিরাপত্তা সংলগ্ন কর্মকর্তাদের এবং তাদের কর্মীদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অবাঞ্ছিত ঘোষণা করাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাতার ছাড়তে হবে। ইরান বারবার কাতারে হামলা চালানোয় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: আল–জাজিরা

ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকে নিজেরা জ্বালানির দাম বৃদ্ধি-সংক্রান্ত সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
মিশিগান অঙ্গরাজ্যের একটি উৎপাদন কারখানায় বুধবার জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘গ্যাসের দাম বাড়ছে, আমরা তা জানি। আমরা জানি এর কারণে মানুষ কষ্টে আছে।’
জেডি ভ্যান্স যোগ করেন, ‘আমরা কয়েকটি বিষয় নিয়ে কাজ করছি, যা আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘোষণা করা হবে।’ তবে এই বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগে তিনি কোনো ঘোষণা দিতে চান না।
হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন নেই জানিয়ে বুধবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি ভাবছি, আমরা যদি ইরানি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের অবশিষ্টাংশ শেষ করে দিই এবং যারা এই প্রণালি ব্যবহার করে তাদের হাতে এর দায়িত্ব ছেড়ে দিই—তা হলে কী ঘটবে? কারণ আমরা তো এটি ব্যবহার করি না। এটি আমাদের অনেক নিষ্ক্রিয় মিত্রদের দ্রুত লাইনে নিয়ে আসবে!’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা শুরু করে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। যুদ্ধের আগে এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি করা হতো।
ইরান বারবার বলেছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ নয়, খোলা। তবে হামলা বন্ধ না করলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদের কোনো জাহাজকে প্রণালি পার হতে দেওয়া হবে না। পার হতে চেষ্টা করলে হামলা চালানো হবে। এ পর্যন্ত সেখানে অন্তত ১৬টি জাহাজ ও ট্যাংকারে হামলা হয়েছে। তবে, যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের অনুমতি নিয়ে ভারত, তুরস্ক ও পাকিস্তানের কয়েকটি ট্যাংকার প্রণালিটি পার হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ছে। বুধবার প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১০৮ ডলার ছাড়িয়েছে, যা যুদ্ধ আগের তুলনায় ৪০ ডলারের বেশি।
জ্বালানির দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হয়েছে। তাই যুদ্ধের শুরু থেকে ন্যাটো ও এশিয়ার মিত্রদের হরমুজে যুদ্ধ জাহাজ পাঠাতে আহ্বান জানিয়ে আসছেন ট্রাম্প। কয়েক দফা আহ্বান সত্ত্বেও যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, গ্রিস, স্পেসসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রায় কোনো দেশ ট্রাম্পের আহ্বানে এখন পর্যন্ত সাড়া দেয়নি। এগুলো সব ন্যাটোভুক্ত দেশ।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসা জ্বালানির অধিকাংশ আসে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। এশিয়ার যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ জাপান ও অস্ট্রেলিয়াও হরমুজে জাহাজ পাঠাবে না বলে জানিয়েছে। শুধু দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে তারা ট্রাম্পের আহ্বান বিবেচনা করে দেখবে।
প্রণালিটি নিরাপদ রাখতে সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে চীনের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। স্বাভাবিকভাবে চীন তাতে সাড়া দেয়নি। মিত্র ও অন্যান্যদের সাড়া না পেয়ে বেশ হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন ট্রাম্প।
সূত্র: এএফপি ও আল-জাজিরা
ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৭ হাজার ৮০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। একই সময়ে দেশটির ১২০টিরও বেশি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করা হয়েছে।
বুধবার এক হালনাগাদে সেন্টকম এ তথ্য জানিয়েছে।
সেন্টকম বলেছে, ‘মার্কিন বাহিনী ইরানের বর্তমান শাসনের নিরাপত্তা কাঠামো ভেঙে দিতে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। যেসব স্থান থেকে তাৎক্ষণিক হুমকির সম্ভাবনা রয়েছে সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।’
সূত্র: আল-জাজিরা

ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানির খুনিদের চরম মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। লারিজানিকে হত্যার প্রায় একদিন পর বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত বিবৃতিতে লারিজানিকে একজন ‘বুদ্ধিমান ও অঙ্গীকারবদ্ধ ব্যক্তি’ এবং ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোর এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব বলে অভিহিত করেন নতুন সর্বোচ্চ নেতা।
বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, ‘এই ধরনের একজন ব্যক্তিত্বের হত্যাকাণ্ড থেকে তিনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং ইসলামের শত্রুদের কাছে তিনি কতটা ঘৃণ্য ছিলেন, তা বোঝা যায়।… প্রতিটি রক্তের মূল্য রয়েছে, যা এই শহীদদের খুনিদের অচিরেই পরিশোধ করতে হবে।’
গত সোমবার রাতে তেহরানে ইসরায়েলের হামলায় ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি তাঁর পুত্রসহ নিহত হন। ওই দিন পৃথক আরেকটি হামলায় দেশটির আধা-সামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিও নিহত হয়।
গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আরেকটি বিমান হামলায় ইরানের গোয়েন্দা বিষয়কমন্ত্রী ইসমাইল খতিব নিহত হন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান খতিব ইসরায়েলের হামলায় নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এটাকে ‘কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ রাজনৈতিক ও সামরিক একাধিক শীর্ষ নেতা নিহত হন। একই হামলায় মোজতবা খামেনিও আহত হয়েছিলেন।
বাবা আলী খামেনির মৃত্যুর কয়েক দিন পর মোজতবা খামেনিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়।
এদিকে বুধবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেন, তাদের সামরিক বাহিনীকে এখন থেকে যেকোনো জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ জন্য বাড়তি অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা

ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানির হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ আজ বুধবার সাংবাদিকদের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘সার্বভৌম ও স্বাধীন ইরানের নেতৃত্বের ক্ষতি করার লক্ষ্যে পরিচালিত যেকোনো পদক্ষেপ, বিশেষ করে এই হত্যাকাণ্ডের (নিরাপত্তা প্রধান লারিজানির) আমরা কঠোর নিন্দা জানাই।’
গত সোমবার রাতে তেহরানে ইসরায়েলের হামলায় ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি তাঁর পুত্রসহ নিহত হন। ওই দিন পৃথক আরেকটি হামলায় দেশটির আধা-সামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিও নিহত হয়। ইরান এসব হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
Advertisement
প্রতিটি উপজেলায় সংবাদদাতা আবশ্যক। যোগাযোগ ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫

ইরান রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার গত জানুয়ারিতে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলো যখন ইরানের দিকে রওনা হচ্ছিল, তখন গত জানুয়ারিতে ক্রেমলিনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন লারিজানি।
সূত্র: আল-জাজিরা



