ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রতিনিধি,মঙ্গলবার ১৭ মার্চ ২০২৬ || চৈত্র ৪ ১৪৩২ || ২৭ রমজান ১৪৪৭ হিজরি :
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পবিত্র আঙিনায় আড্ডারত অবস্থায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রাকিবুল ইসলামকে (রাকিব) যেভাবে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তার নেপথ্যে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
তদন্তকারীরা বলছেন, কোনো তাৎক্ষণিক উত্তেজনা নয়, বরং ‘প্রেমঘটিত দ্বন্দ্বের’ জেরে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। এমনকি রাকিবকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে ভাড়াটে খুনিদেরও আনা হয়েছিল।
Advertisement
অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————
মামলার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, গত রোববার রাতে বোরহান উদ্দিন কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রাকিবুল ইসলাম তার বন্ধুদের নিয়ে শহীদ মিনারের সিঁড়িতে আড্ডা দিচ্ছিলেন। রাত সোয়া ৯টার দিকে তিনি মোটরসাইকেল পার্ক করে বসার পরপরই ওত পেতে থাকা ৫-৬ জন সশস্ত্র হামলাকারী তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘাতকরা প্রথমে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং পরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে রাকিবের শরীরে পাঁচটি গভীর কোপের চিহ্ন এবং পিঠ ও পেটে গুলির ক্ষত পাওয়া গেছে।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ছায়া তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই নৃশংস হামলায় সাত থেকে আটজন সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের একটি প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ গ্রুপটি রাকিবকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ভাড়াটে খুনিদের মাধ্যমে এই অপারেশন চালানো হয়। পুলিশ এরইমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।
নিহত রাকিবের বাবা তারিকুল ইসলাম খোকন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হলের কর্মচারী। রাজধানীর নিমতলীর নাজিম উদ্দিন রোডের বাসায় এখন শুধুই শোকের মাতম। স্নাতক পড়ুয়া ছেলের এমন অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। রাকিব ‘রাকিব আহম্মেদ’ নামে ফেসবুক ও ইউটিউবে নিয়মিত কন্টেন্ট তৈরি করতেন, যা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় ছিল।
Advertisement
প্রতিটি উপজেলায় সংবাদদাতা আবশ্যক। যোগাযোগ ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫

শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিঠু ফকির গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা চাপাতিসহ একজনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। সেই সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



