(ভিডিও)মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা হিতে বিপরীত, ঐক্যবদ্ধ ইরান

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ  ২৪.ম,আন্তর্জাতিক   প্রতিনিধি,রোববার   ০৮ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ২৩ ১৪৩২ || ১৮ রমজান ১৪৪৭ হিজরি :

গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে ইরানজুড়ে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ সামরিক অভিযান দেশটিতে উল্টো প্রভাব ফেলেছে। আক্রমণকারীদের লক্ষ্য ছিল ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও জানুয়ারির বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে দেশটির বিদ্যমান শাসনব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করা। কিন্তু বাস্তবে এর উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে; এই যুদ্ধ ইরানিদের মধ্যে জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

Advertisement

অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————

 

বিশ্লেষকদের মতে, গত বছর জুনের ১২ দিনের যুদ্ধের মতোই বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের মানুষ রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে দেশের প্রয়োজনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের নিজস্ব স্বার্থসিদ্ধি ও ইরানকে দুর্বল করার লক্ষ্যেই এই হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে, তেহরানের রাস্তায় সাধারণ পথচারীদের ওপর বিমান হামলা ও হতাহতের ঘটনা মানুষের মনে দখলদারদের বিরুদ্ধে চরম ঘৃণা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

 

হামলার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। শ্রীলঙ্কার উপকূলে যৌথ মহড়া চলাকালীন মার্কিন সাবমেরিনের হামলায় প্রায় ৮০ জন ইরানি নৌসেনা নিহত হয়েছেন।পুলিশ সদর দপ্তরে বোমা হামলায় অনেক তরুণ কনস্টেবল নিহত ও আহত হয়েছেন।যুদ্ধের প্রথম দিনই দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে একটি স্কুলে হামলায় প্রায় ১৭০ জন স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে, যাকে আন্তর্জাতিক মহলে একটি বড় যুদ্ধাপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

পারস্যের নতুন বছর ‘নওরোজ’ উদযাপনের ঠিক আগ মুহূর্তে এই যুদ্ধ শুরু হওয়ায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাজারগুলো জনশূন্য এবং মানুষ নওরোজের কেনাকাটার চেয়ে স্বজন হারানোর বেদনা নিয়েই ব্যস্ত। এছাড়া তেহরানসহ বিভিন্ন মহানগরী থেকে পরিবারগুলো তাদের শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে শহর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে।

 

ইরানি জনগণের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশ্য মূলত ইরানের তেল-গ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা এবং ইরানের বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। তারা মনে করছেন, ইসরায়েল আঞ্চলিক আধিপত্য বজায় রাখতে ইরানকে ভেঙে দিতে চায়।

 

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষ বলছেন, ইরান অতীতে বহু বিদেশি আক্রমণ সফলভাবে প্রতিহত করেছে। ১৯৮০ সালের ইরাক-ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তারা বলেন, সাদ্দাম হোসেনও তখন একই ধরনের ভুল করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছিলেন।

Advertisement

প্রতিটি উপজেলায় সংবাদদাতা আবশ্যক। যোগাযোগ ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫

 

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ, এমনকি যারা আগে অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে সরকারের সমালোচক ছিলেন, তারাও এখন ‘ঐক্য’ ও সংহতির ডাক দিচ্ছেন। মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক কৌশল যে ইরানিদের মনোবল ভাঙতে ব্যর্থ হয়েছে, তা এখন স্পষ্ট। সূত্রঃ তেহরান টাইমস