ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,রংপুর প্রতিনিধি,শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ || ফাল্গুন ১৫ ১৪৩২ || ১০ রমজান ১৪৪৭ হিজরি :
অস্ট্রেলিয়ান টি ট্রি এসেন্সিয়াল অয়েল সেখানকার আদিবাসীদের খুঁজে পাওয়া একটি গাছ থেকে উৎপাদিত অনেক দামি এবং উপকারি তেল। কেবল তেল নয়, এর পাতারও রয়েছে আশ্চর্য রকম উপকারিতা। সেখানকার আদিবাসীরা ‘টি ট্রি’ নামক গাছের পাতা রূপচর্যা, ত্বকের চিকিৎসা এবং ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করেন। এই গাছের চাষ হচ্ছে রংপুরের পীরগাছায়।
Advertisement
অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————
জানা গেছে, একটি সময় ‘টি ট্রি’ গাছের তেল পশ্চিমা বিশ্বের মনোযোগ আকর্ষণ করে। ঝাউ আকৃতির ওই গাছের পাতা থেকে উৎপাদিত তেলের লিটার ৫০ হাজার টাকা। এ তেল মেলালুকা অয়েল নামেও পরিচিত। কারণ এটি মেলালুকা গাছের পাতা থেকেও উৎপাদিত হয়। এজন্য টি ট্রি এসেন্সিয়াল অয়েল গাছ চাষে প্রান্তিক পর্যায়ের শৌখিন কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার ইটাকুমারী ইউনিয়নের শ্রীকান্ত গ্রামে এই গাছের চাষ শুরু করেছেন প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান আরিফ। এই গাছের পাতা থেকেই তৈরি হয় বিশ্ববিখ্যাত টি ট্রি অয়েল, যা ত্বকের নানা রোগ প্রতিরোধে ও ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যে ব্যবহƒত হয়।
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হরিশচর গ্রামের তরুণ প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান আরিফ চাকরি করতেন তাইওয়ানের একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে। প্রকৌশলী আরিফ জানতে পারেন টি ট্রি গাছের তেলের বাজার মূল্য ও ঔষধি গুণাগুনের কথা। তখনই নিজ দেশে এই গাছের চাষ করবেন বলে চিন্তা-ভাবনা শুরু করেন।
২০২০ সালে এক একর জমি লিজ নিয়ে পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করেন আরিফ। তবে শুরুটা সহজ ছিল না। বিদেশ থেকে চারা আমদানিতে নানা জটিলতায় পড়তে হয় তাকে। কিন্তু হাল ছাড়েননি তিনি। পরে আন্তর্জাতিক ই-কমার্স সাইটের মাধ্যমে অল্প কিছু বীজ সংগ্রহ করেন। বীজ থেকে চারা তৈরি করতে সহযোগিতা করে স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও বাংলাদেশ কৃষি ইনস্টিটিউট।
অবশেষে ৪০টি চারা উৎপাদনে সফল হন তিনি। সেই চারা থেকেই কাটিং পদ্ধতিতে বর্তমানে তার এক একরের প্রকল্পে রয়েছে দুই হাজার ‘টি ট্রি’ গাছ।
এরপর ধীরে ধীরে নিজস্ব ডিস্টিলারি স্থাপন করে আধুনিক পদ্ধতিতে পাতার তেল উত্তোলন শুরু করেন তিনি।
এখন সেই তেল দেশের বিভিন্ন প্রসাধনী ও ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করছেন আরিফ। পাশাপাশি রপ্তানির উদ্যোগও নিয়েছেন তিনি। ‘টি ট্রি’ গাছের পাতার তেল থেকে পাওয়া হাইড্রোসল ওয়াটারও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে।
এছাড়াও ইউরোপ জুড়ে রয়েছে ‘টি ট্রি’ এসেন্সিয়াল অয়েল অপরিহার্য ব্যবহার। সারা বিশ্বে টি ট্রি এসেন্সিয়াল অয়েল অপরিহার্য তেলের ঔষধি এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল হওয়ায় প্রশংসা বাড়তে থাকে। বর্তমানে এটি ফার্মাসিউটিক্যালস, প্রসাধনী, অ্যারোমাথেরাপি জন্যে সারা বিশ্বের মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
প্রকল্পটি ঘুরে দেখা যায়, গাছের পাশেই স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক ডিস্টিলেশন ইউনিট। প্রতিদিন সকালে শ্রমিকরা গাছ থেকে পাতা সংগ্রহ করে বিশুদ্ধ পানিতে ধুয়ে মেশিনে দেন। এরপর স্টিম ডিস্টিলেশন পদ্ধতিতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে গরম করা হয়। তাপের প্রভাবে পাতা থেকে ধীরে ধীরে বের হয় তেল ও হাইড্রোসল ওয়াটার।
প্রতি ব্যাচে ৫০ কেজি পাতা প্রক্রিয়াজাত করে দিনে তিন ব্যাচে প্রায় দেড় লিটার তেল উৎপাদন হয়। চীন থেকে ছোট একটি মেশিন এনে সেটি বিশ্লেষণ করে স্থানীয়ভাবে ৫০০ লিটার ধারণ ক্ষমতার যন্ত্র তৈরি করেছেন আরিফ নিজেই। এখন সেই মেশিন দিয়েই নিয়মিত তেল ও হাইড্রোসল উৎপাদন করছেন তিনি।
গত তিন বছরে উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৫০ লিটার টি ট্রি অয়েল এবং ৫ হাজার লিটার হাইড্রোসল ওয়াটার। এ বছর উৎপাদন দ্বিগুণ হবে বলে আশা ওই উদ্যোক্তার।
শুরুতে গ্রামবাসীর অনেকেই আরিফের প্রকল্পকে হাস্যকর ভাবতেন। অনেকে বলেছিলেন, ‘গাছের পাতা থেকে আবার তেল হয় নাকি!’ কিন্তু সময়ই বদলে দিয়েছে সেই ধারণা। গাছ বড় হওয়ার পর যখন পাতা থেকে তেল বের হতে শুরু করল, সবাই অবাক হয়ে দেখল সম্ভাবনার এক নতুন দিক।
আরিফ বলেন, ‘শুরুতে কেউ বিশ্বাস করেনি। কিন্তু আমি জানতাম এটা সম্ভব। এখন আমার উৎপাদিত তেল দেশ-বিদেশে যাচ্ছে। এটা শুধু আমার স্বপ্ন নয়, বাংলাদেশেরও সম্ভাবনা।’
টি ট্রি তেল ও হাইড্রোসল ওয়াটার বিশ্বব্যাপী স্কিন কেয়ার, হেয়ার কেয়ার ও ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যে ব্যবহƒত হয়। ত্বক সতেজ রাখা, খুশকি দূর করা, ব্রণ ও ফাঙ্গাস প্রতিরোধে এর জুড়ি নেই।
আরিফ বলেন, সরকার যদি রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ করে, তবে এ খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং কর্মসংস্থান -দুটোই বাড়বে।’
চলতি বছর তিনি প্রায় ৩০ লাখ টাকা আয়ের লক্ষ্য নিয়েছেন বলে জানান। বর্তমানে তার বাগানে কাজ করছেন ১৫ জন শ্রমিক। আগামী দিনে বৃহৎ পরিসরে চাষ করে আরও কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনাও করেছেন এই উদ্যোক্তা।
পীরগাছার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামসুজ্জামান শেয়ার বিজকে বলেন, ‘টি ট্রি গাছের চাষ এই এলাকার জন্য একেবারে নতুন হলেও ফলন ভালো হচ্ছে।’
Advertisement
প্রতিটি উপজেলায় সংবাদদাতা আবশ্যক। যোগাযোগ ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫

পীরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আসাদুজ্জামান আরিফের উদ্যোগ কৃষি উদ্ভাবনের দারুণ উদাহরণ। কৃষি বিভাগ শুরু থেকেই তাকে সহযোগিতা করেছে এবং ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোক্তাদের পাশে থাকবে।
এছাড়া কৃষি বিভাগ এই গাছের চাষাবাদ সম্প্র্রসারণে উদ্যোগ নেবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ওই কৃষি কর্মকর্তা।

অস্ট্রেলিয়ান টি ট্রি এসেন্সিয়াল অয়েল গাছ


