ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,বিশেষ প্রতিনিধি,শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ || ফাল্গুন ১৫ ১৪৩২ || ১০ রমজান ১৪৪৭ হিজরি :
নির্বাচিত সরকারের দায়িত্বগ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব। এখন নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে ফিরতে শুরু করেছেন এই সরকারের উপদেষ্টারা। এরইমধ্যে বেশিরভাগ উপদেষ্টা সরকারি বাসভবন ছেড়েছেন, তবে অনেকে এখনো আছেন সরকারি বাংলো বা অ্যাপার্টমেন্টে। তবে প্রায় প্রত্যেকেই গণমাধ্যম এড়িয়ে চলছেন। আছেন লোকচক্ষুর অন্তরালে।
চব্বিশের আগস্টে অভাবনীয় এক অভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান করে ১৬ উপদেষ্টা নিয়ে যাত্রা শুরু করে অভ্যুত্থান পরবর্তী সরকার। পরবর্তীতে এই পরিষদে যুক্ত হন আরও কয়েকজন উপদেষ্টা। সঙ্গে যুক্ত হন কয়েকজন বিশেষ সহকারী।
Advertisement
অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————
দায়িত্বগ্রহণের দেড় বছরের মাথায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারে আসে বিএনপি। কিন্তু নতুন সরকারের শপথের আগেই প্রধান উপদেষ্টার ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব দেশ ছাড়েন।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকারের শপথের পর রাতেই সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আলী রীয়াজও ঢাকা ছাড়েন ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে।
এসব কারণে সরকার পরিবর্তনের পর স্বভাবতই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সাবেক উপদেষ্টারা কে কোথায় আছেন। গত দুদিন সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা যমুনাতেই অবস্থান করছেন। তবে সরকারের দায়িত্ব শেষ করে তিনি যোগ দিয়েছেন ইউনূস সেন্টারে। চলতি মাসের শেষ দিন তিনি যমুনা ছেড়ে তার নিজ বাসভবন গুলশানে ফিরবেন বলেও জানা গেছে। নতুন সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যে উপদেষ্টাদের সরকারি বাসা ছাড়ার নিয়ম রয়েছে। বিশেষ কারণে যদি দ্বিতীয় মাসেও থাকতে হয় তবে সরকারি ভাড়া পরিশোধ করতে হবে।
এদিকে, উপদেষ্টারা কোথায় রয়েছেন সেটি দেখতে মন্ত্রী পাড়ায় যায় সময় সংবাদ। ইউনূস সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী এবং নানা সময়ের আলোচিত সমালোচিত উপদেষ্টা ছিলেন আসিফ নজরুল। ৩৫ হেয়ার রোডের বাসায় থাকতেন তিনি। সেটি ছেড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলারোডের আগের বাসায় ওঠেন তিনি। তবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে একাধিকবার ফুলার রোডের বাসায় গিয়েও সাক্ষাত মেলেনি।
সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশীদকে ফোন করা হলে এক ব্যক্তি বলেন তিনি বাসায় নেই। পরে হেয়ার রোডের তন্ময় ম ২-এ গিয়ে দেখা যায় তিনি সরকারি বাসাতেই রয়েছেন। যদিও পরপর দুদিন চেষ্টা করেও তার সাক্ষাৎ মেলেনি।
গণপূর্ত অধিদফতরের নথি বলছে, বেশিরভাগ উপদেষ্টাই সরকারি বাসা ছেড়ে দিয়েছেন। বাকিরাও ছাড়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। তবে এখনও সরকারি বাসায় রয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। তিনি রয়েছেন মিন্টো রোডের ৪ নম্বর বাসায়।
৩৫ মিন্টো রোডের বাসায় রয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন আছেন মিন্টো রোডের ৫ নম্বর বাসায়। শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার আছেন ৩৪ মিন্টো রোডে। প্রত্যেকের বাসায় গিয়ে এবং মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তারা সাড়া দেননি।
সরকারি আবাসন পরিদফতর সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, ফরিদা আখতার, এম সাখাওয়াত হোসেন ও মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সরকারি বাসার সুবিধা না নিয়ে ঢাকায় নিজ বাসাতেই ছিলেন।
দায়িত্ব শেষে ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি বেলায় আবারও কাজ শুরু করেছেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তবে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে এতটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে যে উপদেষ্টারা সবাই দেশেই আছেন।
Advertisement
প্রতিটি উপজেলায় সংবাদদাতা আবশ্যক। যোগাযোগ ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫

দু-একজন বাদে সব উপদেষ্টাই গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলছেন। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সামলানো এম সাখাওয়াত মোবাইলফোনে জানান, দায়িত্ব পালনকালে তিনি নোয়াখালীর হাতিয়ায় নেয়া একটি প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়ে মানুষের সহযোগিতা পেয়েছেন। আগামী দিনগুলোতে নিজের লেখালেখি ও শিক্ষকতায় ফিরবেন।
জনমানুষ বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সব উপদেষ্টার ভূমিকা বিতর্কিত ছিল না। তাই সবারই লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যাবার কোনো কারণ নেই বলেও মনে করেন তারা।



