
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক হয়। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়েছবি: পিআইডি
ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,বিশেষ প্রতিনিধি, বৃহস্পতিবার ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ || মাঘ ১ ১৪৩২ :
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তির অধ্যাদেশ উপদেষ্টা পরিষদ অনুমোদন দিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ’ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে এ বিষয়ে গেজেট জারি হবে।
Advertisement
উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে রাজনৈতিক প্রতিরোধের উদ্দেশে সংঘটিত কার্যাবলি থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ বলতে বোঝানো হয়েছে, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সংঘটিত কার্যাবলির দায়দায়িত্ব থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে।’
জুলাই ও আগস্টের সময়কালে সংঘটিত কার্যাবলি থেকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ইতিমধ্যে জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা থাকলে সে মামলা প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নেবে সরকার। এ ছাড়া এখন থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা করা যাবে না। তবে জুলাই ও আগস্টে রাজনৈতিক প্রতিরোধের নামে ব্যক্তি ও সংকীর্ণ স্বার্থে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকলে সে ফৌজদারি মামলা থেকে রেহাই পাবে না।
Advertisement
আইন উপদেষ্টা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় যদি কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকে, যেটার সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থান সম্পৃক্ত নয়, লোভের বশবর্তী হয়ে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ও সংকীর্ণ স্বার্থে হত্যাকাণ্ড ঘটায়, এ আইনের মাধ্যমে তাঁকে দায়মুক্তি দেওয়া হবে না। আইনটি তাদের জন্য করা হয়নি। আইনটি করা হচ্ছে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সংঘটিত কার্যাবলির ক্ষেত্রে। সে কার্যাবলিতে যারা সমন্বিতভাবে জড়িত ছিল, তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা আগেই ঘোষণা করেছিলাম জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দেওয়া হবে। জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল, সে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় এই অধ্যাদেশ করা হয়েছে।’
এখন প্রশ্ন আসতে পারে কোন হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক প্রতিরোধের প্রক্রিয়ায় হয়েছে আর কোন হত্যাকাণ্ড ব্যক্তিগত সংকীর্ণতার স্বার্থে হয়েছে—এ কথা উল্লেখ করে আইন উপদেষ্টা বলেন, এটা নির্ধারণের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দেওয়া হয়েছে।
Advertisement
এ প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল আরও বলেন, ‘কোনো ভিকটিমের (ভুক্তভোগী) পরিবার মনে করে তার পিতা বা তার ভাই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে, সে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের কোনো সম্পর্ক ছিল না, তাহলে তাঁরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে যাবেন। মানবাধিকার কমিশন তদন্ত করে যা দেখবে, তারা সে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেবে। পুলিশের মতো মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদন সমান বলে গণ্য হবে।’
‘তদন্তে যদি উঠে আসে রাজনৈতিক প্রতিরোধের কারণে এই হত্যাকাণ্ড, তাহলে তাঁকে দায়মুক্তি দেওয়া হবে। আর যদি ব্যক্তিগত কোনো সংকীর্ণ স্বার্থে হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকে, তাহলে সেই অপরাধ থেকে কেউ রেহাই পাবে না।’
Advertisement
আপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি আপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain আথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বর্তমানে নেই। তাহলে ভুক্তভোগীরা কার কাছে যাবে? জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন করা হবে।



