ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,পঞ্চগড় প্রতিনিধি,রোববার ১১ জানুয়ারি ২০২৬ || পৌষ ২৭ ১৪৩২ :
শহীদ ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের বিচারসহ ৪ দফা দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকালে পঞ্চগড়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সেনাবাহিনীর মধ্যে ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে সেনাবাহিনী তাদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে। এতে অন্তত ২৩ জন শিক্ষার্থী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
Advertisement
আপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি আপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain আথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————
রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় ‘বাংলাদেশপন্থী শিক্ষার্থী’দের ব্যানারে পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারি কলেজ চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় চৌরঙ্গী মোড়ে গিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে। অবরোধের ফলে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
বিকেল ৪টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বির সমাপনী বক্তব্য চলাকালে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে সেনা সদস্যরা তাদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং একপর্যায়ে লাঠিচার্জ শুরু করেন।
আহতদের মধ্যে সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী, মোকাদ্দেসুর রহমান সান, আতিকুর রহমান, মজাহারুল ইসলাম সেলিম, খোরশেদ মাহমুদ ও মাহফুজুর রহমানসহ অন্তত ২৩ জনকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইদ্রাশিশ সান্যাল অঙ্কুর জানান, ২৩ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাদের অধিকাংশের শরীরেই ‘ব্লান্ট ইনজুরি’ (আঘাতজনিত জখম) রয়েছে।
Advertisement
প্রতিটি উপজেলায় সংবাদদাতা আবশ্যক। যোগাযোগ ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫

সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলাম। বক্তব্য শেষ করে চলে যাওয়ার মুহূর্তেই সেনাবাহিনী আমাদের ওপর অতর্কিতে লাঠিচার্জ করে। আমরা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পঞ্চগড় সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ আল হক ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দীর্ঘ সময় মহাসড়ক অবরোধ থাকায় জনদুর্ভোগ লাঘবে আমাদের সদস্যরা তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এসময় শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে উঠলে ধস্তাধস্তির সৃষ্টি হয়। সরিয়ে দেওয়ার সময় হয়তো কারো কারো ওপর লাঠির আঘাত লাগতে পারে, তবে পরিকল্পিতভাবে লাঠিচার্জ করা হয়নি।’
Advertisement
মেজর আদনানের হস্তক্ষেপে পরবর্তীতে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে শহরজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।



