‘ওসি প্রদীপ থাকতে প্রতিরাতেই লাশ টানতে হতো’

SHARE

ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম (টিভি),আদালত প্রতিনিধি,বুধবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ : সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যার টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ ধরা পড়ার পর থানার পরিস্থিতি বদলে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রদীপ ওসি থাকাকালে থানায় আহত-নিহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে আনা-নেওয়ার কাজ করতেন স্থানীয় লেগুনাচালক আবদুল মোনাফ। তিনি বলেন, থানা আর আগের মতো নাই, বদলে গেছে।

মোনাফ বলেন, প্রদীপ ওসি থাকতে প্রতিরাতেই লাশ টানতে হতো। এখন হয় না। বন্দুকযুদ্ধে আহত-নিহতদের হাসপাতালে আনা-নেওয়া করতাম। এখন এসব নেই।

থানার পাশের দোকানি বাদশা মিয়া জানান, এক সময় থানার মেইন গেটের বাইরে লোকজন কান্নাকাটি করতেন। এখন বন্দুকযুদ্ধের কাহিনীও নেই, মৃত ব্যক্তিদের স্বজনদের কান্নাকাটির সেই দৃশ্যও আর দেখা যায় না।

এদিকে, ওসি প্রদীপ কক্সবাজারে চাঁদাবাজি, ক্রসফায়ার ও গুমসহ ধারাবাহিকভাবে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড করে আসছিলেন বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফরিদুল আলম। মামলার রায়ের আগের দিন রোববার (৩০ জানুয়ারি) তিনি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান ‘জাস্ট গো’ নামে ডকুমেন্টারি বানানোর সময় ভুক্তভোগীরা ওসি প্রদীপের অপরাধের বিষয়ে মেজরকে প্রতিবেদন করতে অনুরোধ করেন। তখন মেজর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেন। সেই সঙ্গে প্রদীপের বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে ভুক্তভোগীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া শুরু করেন। বিষয়টি ওসি প্রদীপ জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হন। এরপর তাকে হত্যার পরিকল্পনার নীলনকশা তৈরি করে ওসি প্রদীপ।’

প্রসঙ্গত, ‘জাস্ট গো’ শিরোনামে ভ্রমণ বিষয়ক একটি ডকুমেন্টারি বানাতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার সঙ্গে কক্সবাজারের হিমছড়িতে গিয়েছিলেন ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের শিক্ষার্থী শিপ্রা। এই টিমের অপর দুই সদস্য ছিলেন সাহেদুল ইসলাম সিফাত এবং তাহসিন রিফাত নূর।

প্রায় একমাস কাজ করার পর ২০২০ সালের ৩১ জুলাই টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা।

সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসের করা এই হত্যা মামলায় অভিযোগপত্রে নাম আসা ১৫ আসামির বিরুদ্ধে সোমবার রায় ঘোষণা করবে কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি (টেকনাফে দুটি, রামুতে একটি) মামলা দায়ের করে।

ঘটনার পাঁচ দিন পর ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে টেকনাফ থানার বহিষ্কৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। এ চারটি মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় র‍্যাব।

পরে ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও র‍্যাব-১৫ কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মো. খাইরুল ইসলাম। অভিযোগপত্রে সিনহা হত্যাকাণ্ডকে একটি ‘পরিকল্পিত ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এতে সাক্ষী করা হয় ৮৩ জনকে।

গত ২৭ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করা হয়। এরপর গত ২৩ আগস্ট থেকে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। যা শেষ হয় গত ১ ডিসেম্বর। পরে গত ৬ ও ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় আসামিদের ৩৪২ ধারায় বক্তব্য গ্রহণ।

দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষীদের জবানবন্দি, জেরা ও আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে আজ সোমবার (৩১ জানুয়ারি) ঘোষণা করা হবে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার রায়।