(ভিডিও)এলব্রুস অভিযান তুষারঝড়ে ফিরে যায় দুই দল, থামেননি শাকিল

SHARE

ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,বিশেষ প্রতিনিধি,সোমবার,২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,১৩ আশ্বিন ১৪৩৩১৬ রবিউস সানি ১৪৪৮ :

চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল। এক পা তুলে আরেক পা ফেলার মধ্যেই যেন নতুন করে পরীক্ষা নিচ্ছিল পাহাড়। ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সামনে থাকা দুটি দল। কিন্তু তিনজন তখনও এগিয়ে চলেছেন। তাদেরই একজন বাংলাদেশের পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল। অন্য দুজন হলেন তার সহ-পর্বতারোহী হিদার এবং গাইড অ্যালেক্স।

 

শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছেন শাকিল। মাউন্ট এলব্রুসের চূড়া জয় করেছেন তিনি। রাশিয়ার স্থানীয় সময় ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৭টায় ৫ হাজার ৬৪২ মিটার উচ্চতার এলব্রুসের চূড়ায় পা রাখেন শাকিল। তুষারে ঢাকা সেই চূড়ায় উড়তে থাকে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।

 

এলব্রুস অভিযানে শাকিল ১৯ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন। পরিকল্পনা ছিল ২৫ সেপ্টেম্বর ভোরে সামিট পুশ করার। কিন্তু পাহাড়ি আবহাওয়া পরিকল্পনার সঙ্গে তাল মেলাল না। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অভিযান পরিচালনাকারী এজেন্সি ২৫ সেপ্টেম্বরের সামিট পুশ বাতিল করে। তার আগের টানা দুই দিনের তুষারপাতেও চূড়ার দিকে যাওয়ার পথ ঢেকে যায় হাঁটুসমান নরম বরফে।

পাহাড়ে এমন পরিস্থিতিতে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অপেক্ষা করলে আবহাওয়া আরও খারাপ হতে পারে, আবার তাড়াহুড়া করলেও বিপদ বাড়তে পারে। ফলে শাকিলরা অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। শুক্রবার রাতে আবার চূড়ার উদ্দেশ্যে তারা যাত্রা শুরু করেন।

 

চূড়ায় পৌঁছানোর পর নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শাকিল বলেন, ২৫ সেপ্টেম্বরের পূর্বাভাসে আবহাওয়া কিছুটা শান্ত হওয়ার আভাস ছিল। কিন্তু এলব্রুসে আরোহনের ক্ষেত্রে আবহাওয়ার পূর্বাভাস সবসময় প্রত্যাশামতো কাজে আসে না। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তারা ফিরে আসেননি।

 

‘পাহাড় কখনো কখনো মানুষের শক্তি মাপে না। সবকিছু যখন ফিরতে বলে, তখনো সে কতদূর যেতে রাজি, সেটাই মাপে।’ বলেন শাকিল। এলব্রুসের চূড়ায় দাঁড়িয়ে দেশের পতাকা ওড়াতে পেরে গর্বিত বলেও জানান তিনি।

ইকরামুল হাসান শাকিলের পর্বতারোহণের গল্প অবশ্য এলব্রুসে এসে শুরু হয়নি। ১৯৯৪ সালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বাগচালা গ্রামে জন্ম নেওয়া শাকিল পর্বতারোহী ও অভিযাত্রী। ২০২৫ সালে তিনি সপ্তম বাংলাদেশি হিসেবে মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেন। ‘সি টু সামিট’ নামে পরিচিত একটি অভিযানের মাধ্যমে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছান তিনি।

 

এবার তিনি ককেশাস পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এলব্রুস জয় করলেন। রাশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এই পর্বতকে সাধারণত ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্বত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে ইউরোপ ও এশিয়ার সীমানা ককেশাসের ঠিক কোন অংশ দিয়ে নির্ধারণ করা হবে, তা নিয়ে ভৌগোলিক বিতর্ক রয়েছে। ফলে এলব্রুসের ‘ইউরোপের সর্বোচ্চ’ পরিচয়টি নির্ভর করে ব্যবহৃত ভৌগোলিক সীমারেখার ওপর।

 

এলব্রুসের রয়েছে দুটি প্রধান চূড়া। পশ্চিম চূড়ার উচ্চতা ৫ হাজার ৬৪২ মিটার এবং পূর্ব চূড়ার উচ্চতা ৫ হাজার ৬২১ মিটার। দুটিই প্রাচীন আগ্নেয়গিরির শিখর। বর্তমানে এলব্রুস একটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরি।

  • Advertisement

শাকিলের এবারের অভিযান ছিল ‘বাংলাদেশ-রাশিয়া ফ্রেন্ডশিপ অভিযান’-এর অংশ। ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রাশিয়ান হাউজে তার হাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়। অভিযানটির আয়োজন করে রাশিয়ান হাউজ ইন ঢাকা ও বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব। শিগগিরই মস্কো হয়ে বাংলাদেশে ফেরার কথা রয়েছে শাকিলের।

শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছেন শাকিল। মাউন্ট এলব্রুসের চূড়ায় তিনি পা রাখেন ২৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টায়