ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,বিশেষ প্রতিনিধি ,বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ || আশ্বিন ৯ ১৪৩৩ || ১১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি :
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হত্যাকাণ্ড, নারী ও শিশু নির্যাতন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, হামলা ও বিস্ফোরণের মতো বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় জনমনে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লায় ১৩ বছরের ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম ও খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আজমুল হোসেনের হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি ঢাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
-
Advertisement

-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩
তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সব সূচক যে একইভাবে অবনতি হয়েছে, এমন নয়। পুলিশ-সংশ্লিষ্টদের মতে, কিছু অপরাধ কমলেও হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতন, পুলিশের ওপর হামলা ও গণপিটুনির মতো গুরুতর অপরাধ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বর ডিএমপি কমিশনার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, নিয়মিত টহল এবং বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দেন।
কুমিল্লায় বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে মায়ের আইফোন নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ১৩ বছরের ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। পরদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তদন্ত ও অভিযোগপত্র দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে খুলনায় ভাত চুরির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আজমুল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা নিয়েও ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। পৃথক এসব ঘটনা হলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সহিংস অপরাধের প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে ঢাকায় সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে পুলিশ। ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে দুই শতাধিক চেকপোস্ট বসানো হয় এবং ২৪ ঘণ্টার অভিযানে ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় ডিএমপি। পুলিশের দাবি, এসব অভিযানে অস্ত্র, মাদক ও বিস্ফোরক তৈরির উপকরণও উদ্ধার করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ওপরও বাড়ছে চাপ। সম্প্রতি ডিএমপি কমিশনার নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি না রাখতে, এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও তা দ্রুত কাজে লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট, গোয়েন্দা শাখা ও থানা পুলিশের মধ্যে সমন্বয়ের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ অবশ্য বলেছেন, সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং হত্যা, অপহরণ ও নারী নির্যাতনসহ কয়েকটি অপরাধের হার কমেছে। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।
-
Advertisement

তবে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনা, প্রকাশ্যে অপরাধ এবং নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগ পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান, দৃশ্যমান টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং দ্রুত তদন্তের পাশাপাশি অপরাধের নেপথ্যের সংগঠকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।



