
ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,মেঘনা থেকে সাংবাদিক ইব্রাহীম এর ,বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ || আশ্বিন ৯ ১৪৩৩ || ১১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি :
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের শিবনগর গ্রামের সন্তান মিয়া মোহাম্মদ দাউদ-একজন সফল প্রবাসী বাংলাদেশি, সমাজসেবক এবং মানবিক ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘ সংগ্রাম, কঠোর পরিশ্রম ও সততার মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন। কিন্তু জীবনের সাফল্য তাকে জন্মভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। বরং প্রবাসে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও তিনি দেশের মানুষের সুখ-দুঃখে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। মানবসেবা, দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অনন্য সমন্বয়ে তিনি মেঘনার মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের একজন উজ্জ্বল প্রতিনিধি।
-
Advertisement

-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩
মিয়া মোহাম্মদ দাউদের জীবনসংগ্রামের গল্প অনেক তরুণের জন্য অনুপ্রেরণার। রেডিওগ্রাফার হিসেবে বাংলাদেশে তার কর্মজীবনের সূচনা। পরে উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমান পাকিস্তানের করাচিতে। সেখানে জিয়াউদ্দিন হাসপাতালে দীর্ঘদিন কর্মরত থাকার পর দেশে ফিরে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর কর্মসূত্রে যান সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায়। মক্কার একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত থাকা অবস্থায় ১৯৯৬ সালে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে পৌঁছে যান স্বপ্নের দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে।
অদম্য পরিশ্রম, সততা, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ধাপে ধাপে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। প্রবাসে দীর্ঘদিন বসবাস করলেও নিজের শেকড়, ভাষা ও সংস্কৃতিকে কখনো ভুলে যাননি। একজন আপাদমস্তক বাঙালি হিসেবে তিনি আজও দেশপ্রেম ও বাঙালিয়ানাকে হৃদয়ে লালন করেন এবং দূর প্রবাসে থেকেও দেশের মানুষের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনার সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেন।
মিয়া মোহাম্মদ দাউদের পরিচয়ের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক তার মানবিকতা। প্রতি বছর দুই ঈদকে ঘিরে তিনি অসহায় মানুষের কল্যাণে প্রায় ২০-২৫ লাখ টাকা ব্যয় করেন। কখনো ঈদ উপহার বিতরণ, কখনো চিকিৎসা সহায়তা, আবার কখনো বিপদগ্রস্ত পরিবারের ঘর পুনর্নির্মাণে নীরবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা, মসজিদ, কবরস্থান ও মাদ্রাসার এতিম ও শীতার্ত শিক্ষার্থীদের জন্য কম্বল বিতরণ এবং আর্থিক সহায়তা নিয়মিত প্রদান করেন। অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খরচ বহনেও তিনি এগিয়ে আসেন।
বিদেশে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে থাকা বাংলাদেশিদের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে অনিয়মিত পথে আসা অনেক প্রবাসীকেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে থাকেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে শীতার্ত মানুষের জন্য কম্বল বিতরণে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এক লাখ টাকা অনুদান দেন। একইভাবে রামপ্রসাদের চর খাজা মইনুদ্দিন চিশতী জামে মসজিদের উন্নয়নে চার লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও মানবিক প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সহযোগিতা করে আসছেন। নিজের কষ্টার্জিত অর্থের একটি বড় অংশ তিনি ব্যয় করেন মানবকল্যাণে। তাই প্রবাসে থেকেও তিনি শুধু একজন সফল ব্যক্তিই নন, জন্মভূমির মানুষের কাছে তিনি ভালোবাসা, আস্থা ও নির্ভরতার এক অনন্য নাম।
ব্যক্তিজীবনেও তিনি একজন সফল অভিভাবক। তিন সন্তানের গর্বিত এ পিতা তাদের প্রত্যেককে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার একমাত্র ছেলে ডা. সালেহ আহমেদ সুমন এমডি (ডক্টর অব মেডিসিন) ডিগ্রি অর্জনের পর নিউইয়র্কের আলবার্ট আইনস্টাইন হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত। বড় মেয়ে সালমা সুমি এমবিএ সম্পন্ন করে একটি কলেজে কর্মরত এবং ছোট মেয়ে সায়মা রুমা অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ব্যাংকিং খাতে কর্মরত। সন্তানদের এ সাফল্যের পেছনে তার সহধর্মিণী হোসনেয়ারা বেগমের অবদানও অনস্বীকার্য। তিন সন্তানকে সুশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত করে তিনি একজন ‘রত্নগর্ভা’ মায়ের মর্যাদা অর্জন করেছেন।
মানবসেবার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও প্রবাসী সংগঠনের নেতৃত্বেও রয়েছে তার সক্রিয় ভূমিকা। তিনি কুমিল্লা সোসাইটি অব ইউএসএ ইনক’-র সম্মানিত সভাপতি, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নিউইয়র্ক স্টেট ইউএসএ ইনক-’র পৃষ্ঠপোষক, মেঘনা উপজেলা ফাউন্ডেশন অব ইউএসএ’-র প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং বাংলাদেশ আমেরিকান ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধ করা, সামাজিক উন্নয়ন এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে তার অবদান বিশেষভাবে প্রশংসিত।
‘মানবসেবা পরম ধর্ম’- এ বিশ্বাসকে ধারণ করেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের জন্য কাজ করে চলেছেন। ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সংগঠনের মাধ্যমে মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়াকেই তিনি অধিক কার্যকর মনে করেন। তার বিশ্বাস, সুসংগঠিত সামাজিক উদ্যোগই মানুষের দুঃসময়ে সবচেয়ে কার্যকর সহায়তা পৌঁছে দিতে পারে। এ বিশ্বাস থেকেই তিনি যুক্ত হয়েছেন ‘আদর্শ মেঘনা’ সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে।
একঝাঁক আদর্শবান, শিক্ষিত ও মানবিক তরুণ-তরুণীদের নিয়ে গড়ে ওঠা সংগঠনটির একজন সম্মানিত উপদেষ্টা হিসেবে তিনি নীরবে দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। সংগঠনের বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগে তার আন্তরিক পৃষ্ঠপোষকতা সদস্যদের অনুপ্রাণিত করে। সংগঠনের পক্ষ থেকেও তাকে একজন অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়।
-
Advertisement

জীবনসংগ্রামের প্রতিটি ধাপে অর্জিত অভিজ্ঞতা, সততা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে মিয়া মোহাম্মদ দাউদ হয়ে উঠেছেন একজন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনেও জন্মভূমির মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর যে নিরলস প্রচেষ্টা তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন, সেটিই তার সবচেয়ে বড় পরিচয়। মানুষের জন্য কাজ করাই তার জীবনের মূল দর্শন। আর সেই কারণেই তিনি আজ শুধু একজন সফল প্রবাসী নন, বরং মেঘনার মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া এক নির্ভরতার নাম।


