(ভিডিও)‘যুক্তরাষ্ট্র আবারও হারবে’, নতুন নিষেধাজ্ঞার পর ইরানের হুঁশিয়ারি

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬,১০ ভাদ্র ১৪৩৩১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮:

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় ইরানের দুই বছরের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী আলি মাদানিজাদেহ। তার দাবি, ইরানের জনগণ ও কর্মকর্তাদের দৃঢ়তা পরীক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও নানা পদক্ষেপ নিয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছে। এবারও যুক্তরাষ্ট্র ‘আরেক দফা পরাজিত’ হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

  • Advertisement

  • আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩

সংবাদমাধ্যম দ্য ডন বলছে, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মাদানিজাদেহ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ইরানের জনগণ ও দেশটির কর্মকর্তাদের দৃঢ়তা যাচাই করতে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) সম্ভাব্য সবকিছু করেছে। কিন্তু প্রতিবারই তারা ব্যর্থ হয়েছে। মনে হচ্ছে, তারা আরও একবার পরাজিত হতে চায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরেই এসব পরিকল্পনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। সরকার এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত ছিল এবং এখনও প্রস্তুত রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি সামলাতে আমাদের দুই বছরের পরিকল্পনা রয়েছে।’

এর আগে ইরানের অর্থনীতিকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট স্থানীয় সময় সোমবার (২৪ আগস্ট) ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ইরানের তেলসহ আয়ের সব উৎস লক্ষ্য করে এসব বিধিনিষেধ কার্যকর করা হবে। বিশ্বের অন্য কোনো দেশ ও কোম্পানি যাতে তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই এসব বিধিনিষেধের উদ্দেশ্য।

ওয়াশিংটনের বিধিনিষেধ প্রত্যাখ্যান করে তেহরান বলেছে, ইরানের সঙ্গে অন্য দেশগুলোর সম্পর্ক সীমিত করার মতো অর্থনৈতিক অবস্থানে নেই যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দাবি করেন, তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে বেসেন্ট বলেন, ইরানের ‘এই স্বৈরাচারী শাসনকে টিকিয়ে রাখে এমন প্রতিটি অর্থনৈতিক ‘লাইফলাইন’ বিচ্ছিন্ন করাই আমাদের লক্ষ্য। যতক্ষণ না তেহরান একা হয়ে পড়ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের পদক্ষেপ চলবে।’

যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে তেল কেনাবেচা ও বাণিজ্য করে, তাদের তা বন্ধ করতে সতর্ক করেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী। তার ভাষ্যমতে, দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যেকোনো একটি পক্ষকে বেছে নিতে হবে।

ইরানের বিরুদ্ধে ঘোষিত যুক্তরাষ্ট্রের বিধিনিষেধের নাম দেয়া হয়েছে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ বা অর্থনৈতিকভাবে একঘরে করার অভিযান। বেসেন্ট এটিকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ বলেও মন্তব্য করেছেন।

ডি-ডে বলতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৪ সালে ফ্রান্সের নরম্যান্ডি উপকূলে মিত্রবাহিনীর বড় আকারের সামরিক অবতরণকে বোঝায়। ইরানের বিরুদ্ধে ঘোষিত অর্থনৈতিক কর্মসূচিতে ‘ডি-ডে’ বলার মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মিত্রবাহিনীর অভিযানের তুলনা টানা হয়েছে।

  • Advertisement

অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্টের আওতায় ইরানের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ‘লাইফলাইন’ লক্ষ্য করা হবে। এগুলো হলো ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, সোনা, বিমান চলাচল ও নৌপরিবহন।

বেসেন্ট বলেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে। সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা বলতে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশের সঙ্গে ব্যবসা করা তৃতীয় দেশের ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেয়াকে বোঝানো হয়।