(ভিডিও)চার খুনের পর গোসল করে খেজুর খায় ঘাতকেরা: পুলিশ

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,রংপুর প্রতিনিধি, মঙ্গলবার,২৫ আগস্ট ২০২৬,১০ ভাদ্র ১৪৩৩১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮:

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ পরিবারের ৪ সদস্যকে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। রবিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী।

 

কোতোয়ালি থানার ওসি নাজমুল কাদের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিকভাবে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত আসামিদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

 

এর আগে, ভোরে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই তরুণকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। তারা হলেন- একই এলাকার বিনয় চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯) ও কানু দাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২১)। সম্পর্কে দুজন মামাতো-ফুফাতো ভাই।

দুপুরে মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ প্রেস ব্রিফিংয়ে তাদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সেখানে তিনি হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক কারণ ও ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন।

 

পুলিশ কমিশনার জানান, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির পাশের একটি ভবনের ছাদ দিয়ে তার বাড়ির ছাদে প্রবেশ করে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। সেখানে তারা ইয়াবা সেবন করছিল। এ সময় গণপতি চক্রবর্তী ছাদে উঠলে তাদের দেখে ফেলেন এবং বকাঝকা করেন।

 

নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ তার স্ত্রী-দুই সন্তান

 

পুলিশের দাবি, গণপতি চক্রবর্তী তাদের মাদক সেবনের বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দিতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। একপর্যায়ে সঙ্গে থাকা গামছা দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে ধরলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় শব্দ পেয়ে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা ছাদে এলে তাকেও একইভাবে হত্যা করা হয়।

 

পুলিশ কমিশনার বলেন, ধস্তাধস্তির শব্দ পেয়ে তাদের মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী এগিয়ে এলে তাকেও হত্যা করা হয়। পরে ঘরে থাকা ১২ বছরের ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকেও তারা হত্যা করে।

পুলিশের ভাষ্য, প্রিয়ম তাদের চিনত এবং ভবিষ্যতে ঘটনা জানিয়ে দিতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তাকে হত্যা করা হয়।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর দুজন গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ওয়াশরুমে গোসল করেন, বয়ামে রাখা খেজুর, ফ্রিজ থেকে বের করে শসা খায়। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট ফাঁকা হলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। তবে, যাওয়ার আগে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে ডাকাতির ঘটনা বলে তদন্তকে ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

 

পুলিশ কমিশনার জানান, ঘরে পাওয়া একটি স্বর্ণের চুড়ি আগুনে পরীক্ষা করার আলামত থেকেই তদন্তে নতুন সূত্র মেলে। পরে সিদ্ধার্থের স্বর্ণের কাজে অভিজ্ঞতার বিষয়টি সামনে আসে। তিনি স্থানীয় একটি স্বর্ণের দোকানে কাজ করতেন। পরে লুট করা স্বর্ণালংকার তাদের দেখানো পরিত্যক্ত জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মুগ্ধ কাজ করতেন রংপুর সিটি বাজারের একটি মাছের দোকানে। দীর্ঘদিন ধরে তারা ইয়াবা সেবন করতেন বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ

পুলিশ কমিশনার বলেন, ঘটনার সঙ্গে আরো কেউ জড়িত আছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে আরো নতুন কোনো তথ্য বা আলামত পাওয়া গেলে পরবর্তীতে তা জানানো হবে।

এর আগে শনিবার রাত ১০টার দিকে গণপতি চক্রবর্তীর মুঠোফোন বন্ধ পেয়ে স্বজনেরা তার বাসায় আসেন। বাসাটি তালাবদ্ধ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন তারা। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তালা ভেঙে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে চারজনের মরদেহ দেখতে পান।

  • Advertisement

নিহত গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি অবসরে যান। তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ছিলেন গৃহিণী। মেয়ে প্রাপ্তি চক্রবর্তী রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন। ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী আইয়ুস রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

অবসরের পর গণপতি চক্রবর্তী রংপুর নগরীর একটি শপিং কমপ্লেক্সে দোকানঘর ভাড়া নিয়ে সেখানে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার চেম্বার খুলে সেবা দিয়ে আসছিলেন।