(ভিডিও)রংপুরে গণপতি হত্যাকাণ্ড মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় হত্যা: পুলিশ

SHARE

https://www.facebook.com/share/v/1877pvguDa/

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,রংপুর প্রতিনিধি,রোববার   ২৩ আগস্ট ২০২৬ ||  ভাদ্র ৮ ১৪৩৩ || ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি:

রংপুর নগরীর তাতীপাড়া এলাকায় জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের ৪ সদস্যকে হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে রংপুর মহানগর পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় তাদের হত্যা করা হয়েছে।

 

রবিবার (২৩ আগস্ট) ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুজন হলেন, একই এলাকার বিনয় চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯) ও কানু দাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২১)। গ্রেপ্তারকৃতরা সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো ভাই।

 

দুপুরে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, গণপতির বাসার ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় চারজনকে হত্যা করা হয়।

 

শনিবার (২২ আগস্ট) দিবাগত রাত ১১ টায় নগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ার বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে পুলিশ কমিশনার জানান, গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিবাগত গভীর রাতে পাশের ভবনের ছাদ টপকে গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদে উঠে ইয়াবা সেবন করছিল সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। বিষয়টি দেখতে পেয়ে গণপতি চক্রবর্তী তাদের বাধা দেন। এ সময় তারা গণপতিকে হত্যা করে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গণপতি চক্রবর্তী খালি গায়ে এবং গামছা ঘাড়ে ঝুলিয়ে ছাদে গিয়েছিলেন। অভিযুক্তরা গণপতির ঘাড়ে থাকা গামছা ছিনিয়ে নিয়ে তা দিয়ে তাকে গলায় পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। গণপতির আত্মচিৎকার শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী দুইতলা থেকে ছাদে আসেন। এ সময় ওই দুই যুবক সিঁড়িতেই তার পথরোধ করে শ্বাসরোধে তাকেও হত্যা করে।

 

মায়ের চিৎকার শুনে নিজের রুম থেকে এগিয়ে আসেন তাদের মেয়ে প্রাপ্তি চক্রবর্তী (২৫)। তিনি সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন। তাকেও গামছা ও ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে পাশে থাকা একটি রশি দিয়ে তার গলায় সজোরে ফাঁস দিয়ে তাকে হত্যা করা হয় বলে গ্রেপ্তার দুই যুবকের বরাত দিয়ে জানান পুলিশ কমিশনার।

 

এরপর ওই দুই যুবক গণপতি চক্রবর্তীর শোয়ার ঘরে যায়। সেখানে তারা রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী গণপতির ছোট ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী আইয়ুসকে দেখতে পায়। পরে তাকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

পুলিশ কমিশনার জানান, চারজনকে হত্যা করতে করতে প্রায় ভোর হয়ে যায়। পরে ওই দুই যুবক বাসার বাথরুমে গোসল করে। এরপর ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর খায় এবং ইয়াবা সেবন করে। ঘটনাস্থল থেকে এসবের আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ওই দিন সকালে রাস্তায় মানুষের চলাচল থাকায় হত্যাকারী ওই দুই যুবক বাসা থেকে বের হতে পারেনি। পরে জুমার নামাজের সময় আশপাশের এলাকা কিছুটা নিরিবিলি হলে দুপুরে তারা বাসা থেকে বের হয়ে যায়।

 

তবে ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে দেখানোর জন্য বের হওয়ার আগে তারা বাসার আসবাবপত্র এলোমেলো করে এবং ভাঙচুর করে রাখে। কিছু স্বর্ণালংকার নিয়ে সেগুলো একটি মন্দিরের পাশে পরিত্যক্ত জায়গায় রেখে যায়। পরে গ্রেপ্তারের পর তাদের দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান থেকে ওই স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনার পুলিশ এবং সিআইডি যৌথভাবে তদন্তে নেমে বাসার ভিতরে খেজুর খাওয়ার বিচি এবং অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করেই হত্যাকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারে পর ওই দুই যুবক এসব ঘটনার স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার জানান, মুগ্ধ রংপুর সিটি বাজারের একটি মাছের দোকানে কাজ করে। আর সিদ্ধার্থ একটি স্বর্ণালংকারের দোকানে কাজ করে। তারা দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা সেবন করছিল বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

ঘটনার পর আলামত সংগ্রহ ও তদন্তের ভিত্তিতে রবিবার ভোররাতে মহানগর পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই বাদী হয়ে রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। মামলাটির নম্বর ৪৩।

পুলিশ কমিশনার বলেন, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া কার্যকরের ব্যাপারেও পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তদন্তে আরো নতুন কোনো তথ্য বা আলামত পাওয়া গেলে পরবর্তীতে তা জানানো হবে।

এর আগে শনিবার রাত ১০টার দিকে গণপতি চক্রবর্তীর মুঠোফোন বন্ধ পেয়ে স্বজনরা তার বাসায় আসেন। তারা বাসাটি তালাবদ্ধ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তালা ভেঙে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে চারজনের মরদেহ দেখতে পান।

নিহত গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি অবসরে যান। তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ছিলেন গৃহিণী। মেয়ে প্রাপ্তি চক্রবর্তী রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন। ছোট ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী আইয়ুস রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

অবসরের পর গণপতি চক্রবর্তী রংপুর নগরীর একটি শপিং কমপ্লেক্সে দোকানঘর ভাড়া নিয়ে সেখানে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার চেম্বার খুলে সেবা দিয়ে আসছিলেন।

  • Advertisement

এদিকে আজ দুপুরে একই পরিবারের এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রহস্য উদঘাটন ও প্রকৃত হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রংপুর জেলা স্কুলের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন গণপতি চক্রবর্তীর সহকর্মী শিক্ষক ও তার শিক্ষার্থীরা। সমাবেশ থেকে আসামিদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।

হত্যায় জড়িত সন্দেহে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।