ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,ফরিদপুর প্রতিনিধি, শুক্রবার ২১ আগস্ট ২০২৬ || ভাদ্র ৬ ১৪৩৩ || ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি:
ফরিদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ-ব্যান্ডেজ রেখে সেলাই করে দেওয়ায় কনিকা মন্ডল (৩৬) নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। টানা ৫১ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে গত বুধবার (১৯ আগস্ট) মধ্যরাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
-
Advertisement

-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মন্ডলের স্ত্রী কনিকা মন্ডল প্রসব বেদনা নিয়ে ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলীর সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ডা. লক্ষ্মী রানী দত্তের তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।
অস্ত্রোপচারের পরদিন থেকেই রোগীর পেট অস্বাভাবিক ফুলে যায় এবং তীব্র ব্যথা শুরু হয়। স্বজনরা বিষয়টি চিকিৎসকের নজরে আনলেও তিনি তা এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে রোগীর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে ৩ জুলাই তাকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ৭ জুলাই চিকিৎসকরা জানতে পারেন, কনিকার পেটের ভেতর বড় আকারের সার্জিক্যাল গজ (মব) থেকে গেছে। ওই দিনই জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পেট থেকে সেই গজ বের করে আনা হয়।
অস্ত্রোপচারের পর রোগীকে চার দিন আইসিইউসহ মোট দেড় মাসেরও বেশি সময় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় পরিবারের প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচ হলেও শেষ পর্যন্ত কনিকা মন্ডলকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
মৃত্যুর পর নিহতের স্বামী অশান্ত মন্ডলের হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা পাঠিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. লক্ষ্মী রানী দত্ত। সেখানে তিনি লেখেন, “ভুল মানুষেরই হয়… অনেক ঝামেলার ভেতর থেকে আমি ভুল করে ফেলেছি। আমি বার বার ক্ষমাপ্রার্থী আপনার কাছে।”
তবে, এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত চিকিৎসক গণমাধ্যমের সামনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। সমরিতা জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মহশিন শরীফও বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জেনেছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
-
Advertisement

মৃত কনিকা মন্ডল মাত্র দেড় মাস বয়সী কন্যাসহ তিন সন্তান রেখে গেছেন। চিকিৎসকের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের উপযুক্ত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে শোকাহত পরিবার।



