ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম, প্রতিনিধি,সোমবার ২৯ জুন ২০২৬ || আষাঢ় ১৫ ১৪৩৩ || ১৩ মহররম ১৪৪৮ হিজরি :
দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন। সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু এসব তথ্য জানিয়েছেন।
Advertisement

- (মোঃ ইসমাইল হোসেন)
-
অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৩১৫২৫১১৪৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩
গত ১৪ জুন, নিউমোনিয়াজনিত জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। প্রেসার ও অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাচ্ছিল, অবস্থা বুঝে চিকিৎসকরা আইসিইউতে রাখার পরামর্শ দেন। তারপর থেকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন পাপেটশিল্পের এই পথিকৃৎ।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর ধরে বয়সজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। এ সময়ে একাধিকবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে লাইফ সাপোর্টেও রাখা হয়। পরে অবস্থার উন্নতি হলেও এবার নিউমোনিয়ার সংক্রমণ তার শারীরিক অবস্থাকে আরো জটিল করে তোলে।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন যশোর জেলার (বর্তমান মাগুরা) নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফা ও জমিলা খাতুন দম্পতির ছয় সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে মা জমিলা খাতুনকে হারান তিনি।
কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অব আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে শিক্ষাজীবন শেষ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। ভারতেই পাপেটশিল্পের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করে।
শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপ-মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (এফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।
মুস্তাফা মনোয়ার বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির অন্যতম উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব। কর্মজীবনের শুরুতে তৎকালীন আর্ট কলেজে শিক্ষকতা করেন। পরে পাপেট শিল্পকে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে পথিকৃৎ হিসেবে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনে শিশুদের জন্য নির্মিত তার বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বিশেষ করে পাপেটভিত্তিক পরিবেশনা, প্রজন্মের পর প্রজন্মের দর্শকের কাছে আজও স্মরণীয়।
Advertisement

চিত্রকলা, শিশুতোষ সংস্কৃতি, টেলিভিশন ও পাপেট শিল্পে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে একুশে পদক লাভ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। এছাড়া ২০১৮ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি তাকে মর্যাদাপূর্ণ ‘সুলতান স্বর্ণপদক’ প্রদান করে।
১৯৬৫ সালে মেরী মনোয়ারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মুস্তাফা মনোয়ার। তাদের এক ছেলে সাদাত মনোয়ার ও এক মেয়ে নন্দিনী মনোয়ার।

মুস্তাফা মনোয়ার


