ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,অপরাধ প্রতিনিধি,সোমবার ০৮ জুন ২০২৬ || জ্যৈষ্ঠ ২৫ ১৪৩৩ || ২২ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি :
বাংলাদেশ প্রচলিত আইন অনুযায়ী, বিয়ের প্রতিশ্রুতি বা প্রেমের সম্পর্ক দেখিয়ে সহবাস করার পর যদি কোনো নারী গর্ভবতী হয়ে পড়েন এবং পুরুষটি পরে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান, তবে এটিকে “বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ” হিসেবে গণ্য করা হয়।
-
Advertisement

-
অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৩১৫২৫১১৪৫
এই অপরাধের বিচার এবং সাজার বিধান নিচে আইনের রেফারেন্সসহ আলোচনা করা হলো:
১. মূল অপরাধের ধারা ও সাজা
এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে প্রধানত -নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০) এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০ প্রযোজ্য হয়।
#নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ৯(১)
যদি কোনো পুরুষ বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে কোনো নারীর সম্মতি আদায় করে সহবাস করেন, তবে আইনের দৃষ্টিতে সেই সম্মতি “বৈধ সম্মতি” হিসেবে গণ্য হয় না।
একে ধর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
#সাজা: এই ধারার অধীনে অপরাধ প্রমাণিত হলে অপরাধীর সাজা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড এবং এর পাশাপাশি অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
#দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৪১৭ (প্রতারণা)
যদি ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় ধর্ষণের উপাদান পুরোপুরি প্রমাণিত না-ও হয়, তবে বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করাকে এক ধরণের জালিয়াতি বা প্রতারণা ধরা হয়।
#সাজা: দণ্ডবিধির ৪১৭ ধারা অনুযায়ী প্রতারণার জন্য সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
২. সন্তান সম্ভবা (গর্ভবতী) হওয়ার ক্ষেত্রে আইনের অবস্থান
যদি ভুক্তভোগী নারী সম্পর্কের ফলে গর্ভবতী হয়ে পড়েন, তবে আইনের কঠোরতা এবং অপরাধের ভয়াবহতা আরও বৃদ্ধি পায়।
#ডিএনএ পরীক্ষা ও পিতৃত্ব নির্ধারন
ডিএনএ আইন, ২০১৪: সন্তান সম্ভবা হলে বা সন্তান জন্ম নিলে, আদালতের নির্দেশে শিশু, মা এবং অভিযুক্ত পুরুষের ডিএনএ (DNA) পরীক্ষা করা হয়। ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ এলে তা আদালতে আসামির বিরুদ্ধে অপরাধের সবচেয়ে বড় অকাট্য প্রমাণ (Corroborative Evidence) হিসেবে গণ্য হয়।
#সন্তানের ভরণপোষণ ও অধিকার
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ১৩: এই ধারা অনুযায়ী, ধর্ষণের কারণে যদি কোনো সন্তান জন্ম নেয়, তবে সেই সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে ওই পুরুষের (পিতার) ওপর বর্তাবে।
আদালতের নির্দেশে রাষ্ট্র ওই সন্তানের ২১ বছর বয়স পর্যন্ত (এবং কন্যাসন্তান হলে তার বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত) ভরণপোষণের খরচ আসামি বা তার সম্পত্তি থেকে আদায় করে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।
৩. গুরুত্বপূর্ণ উচ্চ আদালতের নজির (Case Law)
বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট বিভিন্ন মামলায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস করার পর বিয়ে না করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
নজির: রাষ্ট্র বনাম দেলোয়ার হোসেন (৫০ DLR, পৃষ্ঠা-৬৪৩) এবং মিজানুর রহমান বনাম রাষ্ট্র (৫৭ DLR) মামলায় আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন যে— যদি কোনো পুরুষ শুরু থেকেই বিয়ে করার কোনো বাস্তব ইচ্ছা না রেখে, কেবল শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে মিথ্যা বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে নারীর সেই সম্মতি আইনের চোখে কোনো সম্মতি নয় এবং তা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারা অনুযায়ী সরাসরি “ধর্ষণ” হিসেবে গণ্য হবে।
-
Advertisement

#বিশেষ দ্রষ্টব্য: এটি একটি আইনি তথ্যমূলক সহায়তামাত্র। বাস্তব ক্ষেত্রে মামলার ধরন, ভুক্তভোগীর বয়স (১৮ বছরের কম বা বেশি) এবং প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে আইনের ধারা ও সাজার তারতম্য হতে পারে।



