https://www.facebook.com/share/v/1HtSi2mCaU/
ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,আইন আদালত সবার দেশ পত্রিকার সৌজন্যে,বৃহস্পতিবার ০৭ মে ২০২৬ || বৈশাখ ২৪ ১৪৩৩ || ১৯ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি :
দুই দশকের বেশি সময় আগের একটি অর্থ আত্মসাতের মামলায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বর্ষীয়ান রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২২ জুন দিন ধার্য করা হয়েছে।
Advertisement
অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————
বৃহস্পতিবার (৭ মে) ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক বেগম শামীমা আফরোজ অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
মামলার অপর দুই আসামি হলেন— মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম ও মোশাররফ হোসেন। এর মধ্যে মোশাররফ হোসেন জামিনে থেকে আদালতে হাজির ছিলেন। অন্যদিকে তোফায়েল আহমেদ ও আনোয়ারুল ইসলাম পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে আগেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কৌঁসুলি ইশতিয়াক আহমেদ জানান, এদিন অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। দুদকের পক্ষ থেকে অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করা হয়। জামিনে থাকা আসামি মোশাররফ হোসেনের আইনজীবী তার অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। তবে আদালত তা নাকচ করে তিন আসামির বিরুদ্ধেই অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।
এদিন আদালতে তোফায়েল আহমেদের মানসিক পরীক্ষার আবেদনও নথিভুক্ত করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার তার আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার আদালতে আবেদনটি দাখিল করেন।
আবেদনে বলা হয়, তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শারীরিক ও মানসিকভাবে তিনি আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে অক্ষম।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়,
তিনি কাউকে চিনতে পারেন না, তার স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছে এবং মানসিকভাবে অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন।
এ বিষয়ে দুদকের কৌঁসুলি ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, আদালত তোফায়েল আহমেদের আইনজীবীকে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন করতে বলেছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিলো, মামলাটি অনেক পুরোনো, এটি সামনের দিকে এগোতে হবে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পরিদর্শক কাজী শামসুল ইসলাম মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্জিত ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা গোপন করার উদ্দেশ্যে তোফায়েল আহমেদ সহযোগীদের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর ও উত্তোলন করেন।
মামলায় বলা হয়, ম্যাডোনা অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের প্রধান হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং ভোলার মোশাররফ হোসেনের সহযোগিতায় সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখা থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট সোয়া কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়।
তদন্ত শেষে তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তবে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলার কার্যক্রম দীর্ঘদিন স্থগিত ছিলো। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উচ্চ আদালতের সে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম আবারও শুরু হয়।
Advertisement

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল আহমেদ বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগে স্ট্রোক করার পর তার শরীরের একাংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। বাঁ হাত ও পা অবশ হয়ে যাওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে হুইলচেয়ারে চলাফেরা করছেন।

ছবি: সংগৃহীত


