ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি, বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল ২০২৬ || বৈশাখ ১৭ ১৪৩৩ || ১২ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি :
পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘মহা শয়তান’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর নিয়ে ইরানের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করে তাকে ‘মহা শয়তান’ বলে উল্লেখ করেছেন। ইরানি নেতৃত্ব দাবি করেছে, পারস্য উপসাগর একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ, যা অতীতে বহুবারই পশ্চিমা দেশগুলোর আগ্রাসন ও হুমকির মুখে পড়েছে। সর্বশেষ বক্তব্যে তারা উপসাগরের ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের কথা জোর দিয়ে তুলে ধরেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এই অঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টিকারী শক্তি হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন।
এদিকে এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন চলমান নৌ অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণালি ৫৫ দিনের বেশি সময় ধরে কার্যত বন্ধ রয়েছে। ইরানের বক্তব্যে আদর্শিক অবস্থান স্পষ্ট। দেশটি ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর জোর দিয়ে ভূরাজনৈতিক সংঘাতকে বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবে উপস্থাপন করছে।
সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে কড়া বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল ‘নিরাপদ করবে’ এবং ‘শত্রুর অপশক্তি’ দূর করবে। অবশ্য তিনি অসুস্থ অবস্থায় আছেন বলে খবর রয়েছে এবং জনসমক্ষে খুব কমই আসেন। মোজতবা বলেন, পারস্য উপসাগরে ‘অশান্তি সৃষ্টি করা বিদেশি শক্তিকে’ পানির গভীরে নিক্ষেপ করা হবে।
ইন্ডিয়া টুডে বলছে, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পাঠ করা এই বার্তা আসে এমন সময়ে এসেছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে শোনা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রকে দেয়া ওই প্রস্তাবে ইরান চেয়েছিল তাদের বন্দর দিয়ে জাহাজ চলাচলে অবরোধ তুলে নেয়ার বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া হোক।
চলতি বছরের মার্চ থেকে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে এবং সেটি খুলতে এই শর্ত দিয়েছিল। এতে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতি চাপে পড়েছে।
খামেনি বলেন, ‘উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির জন্য একটি নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে’। তিনি দাবি করেন, হরমুজের ‘নতুন ব্যবস্থাপনা’ অঞ্চলে শান্তি, উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সুবিধা বয়ে আনবে। বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন, পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতিই এই অঞ্চলের ‘অস্থিতিশীলতার সবচেয়ে বড় কারণ’।
তিনি বলেন, ‘আমেরিকার তথাকথিত সামরিক ঘাঁটিগুলো নিজেদের নিরাপত্তাই নিশ্চিত করতে পারে না, অন্যদের নিরাপত্তা দেয়ার প্রশ্নই আসে না।’
মোজতবা খামেনির এই বার্তার সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরে মার্কিন স্বার্থে আঘাত হেনেছে এবং বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। একই সময়ে মার্কিন অবরোধ ইরানের তেল রপ্তানিতেও চাপ তৈরি করেছে।
এর আগে ইরানের নৌবাহিনীর প্রধান নতুন এক অস্ত্রের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই অস্ত্র নিয়ে শত্রুরা ‘গভীরভাবে আতঙ্কিত’। সেই প্রেক্ষাপটে খামেনি বলেন, ইরানের শত্রুদের জায়গা হবে ‘এই পানির গভীরেই’।
Advertisement

তিনি বলেন, ‘যারা হাজার হাজার কিলোমিটার দূর থেকে লোভের বশে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে অশান্তি ছড়াতে আসে, তাদের জায়গা এখানে নয়— শুধু পানির তলায়’। বার্তার শেষে খামেনি আবারও উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমেরিকাবিহীন ভবিষ্যৎই হবে এই অঞ্চলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ’।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ফাইল ছবি)


