টেটা যুদ্ধের ঘটনায় ৭০ জনকে আসামি করে মামলা

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ  ২৪.ম,সাংবাদিক ইব্রাহীম মেঘনা থেকে,মঙ্গলবার   ২১ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ৮ ১৪৩৩ || ৩ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি :

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও টেটা যুদ্ধের ঘটনায় ৪১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২০ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাতসহ মোট প্রায় ৭০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

Advertisement

অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে মেঘনা থানায় মামলাটি করেন আব্দুস সালাম। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে চালিভাংগা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল লতিফ সরকারকে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চালিভাংগা ইউনিয়নের মৈশারচর গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ সরকারের সঙ্গে বিএনপি নেতা আব্দুস সালামের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ ও আধিপত্য নিয়ে উত্তেজনা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার বিকেলে আব্দুল লতিফ সরকারের ভাগনে ও স্থানীয় ইউপি সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মনোয়ার হোসেন মনা মেম্বার এবং তার অনুসারীদের নেতৃত্বে ৬০ থেকে ৭০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আব্দুস সালামের বাড়িতে হামলা চালায়।

হামলাকারীরা বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় সালামের পক্ষের লোকজন প্রতিরোধ করলে দুই পক্ষের মধ্যে টেটা যুদ্ধ শুরু হয়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে দুইজন টেটাবিদ্ধ হয়েছেন।

এ সময় হামলাকারীরা আশপাশের আরও কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে মঙ্গল মিয়ার দুটি, আলী হোসেনের একটি, আজগর আলীর একটি, মমতাজ আলীর দুটি এবং হোসেন মিয়ার দুটি বসতঘর। নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান সামগ্রী লুটের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, মনা মেম্বার ও তার অনুসারীদের প্রভাবের কারণে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস অনেকের নেই বলেও অভিযোগ করেন তারা। দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মামলার বাদী আব্দুস সালামের ছেলে আল-আমিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাদের পরিবারের সঙ্গে প্রতিপক্ষের বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি বাড়িতে রাজনৈতিক নেতাদের দাওয়াত দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বাড়ে, যার জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

Advertisement

অন্যদিকে প্রধান আসামি আব্দুল লতিফ সরকারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মনোয়ার হোসেন মনা মেম্বারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।

মেঘনা থানার ওসি শহীদুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তিনি বলেন, ঘটনাটি রাজনৈতিক নাকি পূর্ব শত্রুতার জেরে—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।