ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি , শুক্রবার ১০ এপ্রিল ২০২৬ || চৈত্র ২৭ ১৪৩২ || ২১ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি :
হরমুজ প্রণালির আকাশে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন। এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোনটি উড্ডয়নরত অবস্থাতেই জরুরি সংকেত পাঠানোর পর হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায়। এই ঘটনায় তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। যুদ্ধবিরতির মাত্র দুই দিনের মাথায় এমন ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে আবারও উসকে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, হরমুজ প্রণালির ওপর দিয়ে উড্ডয়নের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি নজরদারি ড্রোন নিখোঁজ হয়েছে। এমকিউ-৪সি ট্রাইটন নামের ওই ড্রোনটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আকাশযানগুলোর একটি। খবরে বলা হয়েছে, উড্ডয়নের মাঝপথে জরুরি সতর্কতা সংকেত দেয়ার কিছুক্ষণ পরই ড্রোনটি অদৃশ্য হয়ে যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রোনটি পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির ওপর প্রায় তিন ঘণ্টার নজরদারি মিশন শেষ করে ইতালির নেভাল এয়ার স্টেশন সিগোনেল্লায় ফিরে যাচ্ছিল। অনলাইন ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, জরুরি পরিস্থিতির সংকেত ‘কোড ৭৭০০’ পাঠানোর সময় এটি সামান্য ইরানের দিকে মোড় নেয় এবং দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে।
এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই এটি রাডার থেকে হারিয়ে যায়। তবে ড্রোনটি ভূপাতিত হয়েছে নাকি গুলি করে নামানো হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মাত্র দুই দিন পর এই ঘটনা ঘটল। ওই চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর কথা জানিয়েছিল।
এনডিটিভি বলছে, এমকিউ-৪সি ট্রাইটন সম্পর্কে বলা হয়, এটি ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের একটি ড্রোন এবং এটি উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে এটি সাধারণ আকাশযানের মতো নয়, ট্রাইটন দীর্ঘ সময় ধরে কৌশলগত নজরদারি চালাতে সক্ষম। এটি সমুদ্রপথের গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ রুটগুলোতে নজরদারির জন্য বিশেষভাবে তৈরি এবং পি-৮এ পোসাইডন টহল বিমানের ‘চোখ’ হিসেবে কাজ করে।
এটি একমাত্র স্বয়ংক্রিয় উচ্চ-উচ্চতা, দীর্ঘস্থায়ী সামুদ্রিক নজরদারি প্ল্যাটফর্ম যা ৫০ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় টানা ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় উড়তে পারে এবং এর পরিসীমা প্রায় ৭ হাজার ৪০০ নটিক্যাল মাইল। ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর কাছে ২০টি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন ছিল এবং আরও সাতটি সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ইরান যুদ্ধের ব্যয় নিয়েও তথ্য সামনে এসেছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০ হাজার ৩০০ ডলার খরচ করছে। এর মধ্যে অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র খাতে দৈনিক প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে, যা মোট ব্যয়ের ৩৬ শতাংশ।
Advertisement

এছাড়া বিমান হামলা পরিচালনায় দৈনিক ব্যয় প্রায় ২৪৫ মিলিয়ন ডলার (২৭.৫ শতাংশ) এবং নৌ অভিযানে প্রায় ১৫৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।
এর পাশাপাশি মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়, যেমন থাড, প্যাট্রিয়ট ও এইজিস খাতে দৈনিক ব্যয় প্রায় ৯৫ মিলিয়ন ডলার, যা মোট ব্যয়ের ১০.৭ শতাংশ। গোয়েন্দা ও সাইবার কার্যক্রমে খরচ হচ্ছে প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ডলার এবং জনবল ও লজিস্টিক খাতে দৈনিক ব্যয় প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার।



