(ভিডিও্)সাশ্রয়ের সুযোগ হাতছাড়া বাংলাদেশের ৮ হাজার কোটি টাকার তেল প্রকল্প পড়ে আছে অচল

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ  ২৪.ম,আন্তর্জাতিক সবার দেশ পত্রিকার সৌজন্যে , শুক্রবার   ১০ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২৭ ১৪৩২ || ২১ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি :

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতার মধ্যেই দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অবকাঠামো দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত তেল খালাস ও পরিবহন সুবিধা এখনও চালু করা যায়নি, ফলে সম্ভাব্য বিপুল অর্থ সাশ্রয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সিঙ্গেল পয়েন্ট ম্যুরিং’ (এসপিএম) নামে এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ২০২৪ সালেই শেষ হয়েছে। কিন্তু অপারেটর নিয়োগ জটিলতায় এখনও এটি চালু হয়নি। ফলে অত্যাধুনিক এ অবকাঠামো কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে আছে।

Advertisement

অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————

মহেশখালীতে নির্মিত ছয়টি বড় স্টোরেজ ট্যাংকে দেশের প্রায় এক মাসের ক্রুড অয়েল এবং এক সপ্তাহের ডিজেল মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু সেগুলো এখনও খালি পড়ে আছে। পুরো প্রকল্পে বঙ্গোপসাগরে ভাসমান বয়া, প্রায় ২২০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন এবং দুই লাখ টন ধারণক্ষমতার ট্যাংক নির্মাণ করা হয়েছে।

এ পাইপলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে গভীর সমুদ্র থেকে সরাসরি মহেশখালী হয়ে Eastern Refinery Limited-এ তেল সরবরাহ করা সম্ভব। এতে বড় জাহাজ থেকে সরাসরি তেল খালাস করে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় রিফাইনারিতে পৌঁছানো যাবে। অথচ বর্তমানে ছোট জাহাজে করে কর্ণফুলী চ্যানেল দিয়ে তেল নিতে সময় লাগে প্রায় ১১ দিন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ আধুনিক পদ্ধতি চালু হলে সময় ও খরচ—দুই-ই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, পাশাপাশি পরিবহনজনিত অপচয় ও পরিবেশ ঝুঁকিও কমবে।

প্রকল্পটির আওতায় নির্মিত তিনটি ক্রুড অয়েল ট্যাংকের প্রতিটির ধারণক্ষমতা ৬০ হাজার কিলোলিটার এবং তিনটি ডিজেল ট্যাংকের প্রতিটির ধারণক্ষমতা ৩৬ হাজার কিলোলিটার। সব মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ টন তেল সংরক্ষণ করা সম্ভব, যা কৌশলগত মজুত হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে এ সম্ভাবনাময় প্রকল্প আটকে আছে মূলত প্রশাসনিক জটিলতায়। Bangladesh Petroleum Corporation-এর অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলেও অপারেটর নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিয়েছে। আগের সরকার বিশেষ আইনে দরপত্র ছাড়াই পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিলেও পরবর্তীতে সে আইন বাতিল হওয়ায় নতুন করে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করতে হয়, যা পুরো প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করেছে।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ তামিম মনে করেন, অগ্রাধিকার দিয়ে পদক্ষেপ নিলে এ বিলম্ব এড়ানো যেতো। তার মতে, পাইপলাইনে তেল পরিবহন দ্রুত, সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব হওয়ায় এটি চালু করা জরুরি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমামও বলেন, আধুনিক এ ব্যবস্থা পড়ে থাকা অগ্রহণযোগ্য। দ্রুত কারণ অনুসন্ধান করে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া উচিত।

Advertisement

জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মোর্শেদা ফেরদৌস জানিয়েছেন, অপারেটর নিয়োগে দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চলছে এবং দ্রুত প্রকল্পটি চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে একটি পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কোম্পানিও গঠন করা হয়েছে।

তবে সবকিছু সত্ত্বেও প্রকল্পটি ঠিক কবে চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। এতে করে বাড়তি খরচ, অপচয় ও আমদানি নির্ভরতার চাপে দেশের জ্বালানি খাত আরও ঝুঁকির মুখে থাকছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।