সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন আলোচনায় জনপ্রিয় স্থানীয় নেত্রী খালেদা-দিলারা-রুবী-দোলা

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ  ২৪.ম,দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার সৌজন্যে ,সোমবার   ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২৩ ১৪৩২ || ১৭ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেক জনপ্রিয় বিএনপি নেত্রী। তারা বিএনপি’র দুর্দিনে যেমন রাজপথের আন্দোলনে ছিলেন। তেমনি বৈরী সময়গুলোতে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আ’লীগ প্রার্থীদের পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন বিপুল ভোটে। বিগত দেড় দশকে আওয়ামী নির্যাতনে যখন বাসা বাড়িতে রাত কাটানো দুষ্কর হয়ে পড়ে, তখন এসব নারী নেত্রী সাহসিকতার সঙ্গে বিএনপি’র স্থানীয় রাজনীতির ঝাণ্ডা উড্ডীন রেখেছেন। নিজেদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, জনপ্রিয়তা, জনসম্পৃক্ততা এবং সততাই তাদের বার বার বিপুল ভোটে বিজয়ী হতে সহযোগিতা করেছে। বিএনপি’র এখন সুদিন। তাই তাদের প্রত্যাশা-এ সময় তারা দল থেকে মূল্যায়িত হবেন।

Advertisement

অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————

খালেদা আলম : ওয়ার্ড কাউন্সিলর খালেদা আলম। ২০১৫ সালে তিনি ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৫২,৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী আসনে বিপুল ভোটে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ২০২০ সালে এসব ওয়ার্ড থেকে তিনি বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এ দু’টি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থীরা পরাজিত হলেও ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে জয়ী হন তিনি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কদমতলী থানা বিএনপি’র তিনি যুগ্ম আহ্বায়ক। জাতীয়তাবাদী মহিলা দলেরও তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা দলের সহ-সভানেত্রী।

 

মহিলা দলের ‘বিশেষ সম্পাদিকা’ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ছিলেন বিএনপি’র ঢাকা মহানগর মহিলা দলের গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদিকা। শ্যামপুর-কদমতলী থানা মহিলা দলের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

 

বিএনপি’র রাজনীতি করার কারণে ১৯৯৬ সাল থেকেই তিনি হয়রানির শিকার। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসনামলে তিনি মামলা-হামলার শিকার হন।

রাজনৈতিক আলোচনা

 

আত্মগোপনে ছিলেন এ সময়। খালেদা আলমের অবস্থান জানতে সে সময় পরিবারের সদস্যদের থানায় ডেকে এনে ভয়-ভীতি দেখানো হয়। দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে ছিলেন অগ্রভাগে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজ নির্বাচনী এলাকায় চালিয়েছেন বহু সামাজিক কর্মকা-।

 

দিলারা শিরিন : আওয়ামী শাসনামলে টানা তিন বার কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি’র এই নেত্রী। ব্যক্তিগত বিপুল জনপ্রিয়তা, জনসম্পৃক্ততা, কঠোর পরিশ্রম আর সততাই তাকে এ পদে বার বার ভোট দিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

দিলারা শিরিন ছাত্রজীবন থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ২০০৯ সালে তিনি প্রথম কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা ছাত্রদলের ছাত্র বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালে মেঘনা উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি মনোনীত হন। ২০১৬ সালে মেঘনা উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল, (কুমিল্লা-উত্তর)র সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালে দিলারা শিরিন কুমিল্লা (উত্তর) জেলা বিএনপি’র সদস্য হন। একই বছর তিনি কুমিল্লা (উত্তর) মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ব্যক্তিগত জীবন সংগ্রামের পাশাপাশি তিনি রাজনৈতিক আদর্শ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করে চলেছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট স্টাডিজের ওপর মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়ে নিবেদিত রয়েছেন স্থানীয় রাজনীতি ও জনসেবায়।

 

দুর্দিনে বিএনপি’র হয়ে মাঠে ছিলেন। শিকার হয়েছেন হামলা-মামলার। ২০১৮ সালের ১৯ মার্চ তিনি গ্রেফতার হন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ওপর হামলা হয়। তাকে বহনকারী স্পীডবোট লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা কয়েকজন বিএনপি নেতাকে আটকে রাখে। এদের একজন ছিলেন দিলারা শিরিন। ২০২২ সালে দিলারা শিরিনের একমাত্র পুত্র মেহেদী হাসানের হাসিনাবিরোধী একটি পোস্টের অপরাধে গ্রেফতার করে। তার ওপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়। ২০২৪ সালে নির্বাচন বর্জনের লিফলেট বিতরণ কালে আওয়ামী সন্ত্রাসীদ্বারা লাঞ্ছিত হন। অদম্য দিলারা শিরিন তবু অবিচল থেকেছেন বিএনপি’র আদর্শে। দুর্দিনে ঝুঁকিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে আনুগত্য দেখিয়েছেন দলের প্রতি।

 

শামীমা আক্তার রুবী : কুমিল্লা থেকে মনোনয়ন দৌড়ে আলোচনায় রয়েছেন মুরাদ নগরের শামীমা আক্তা রুবী। শহীদ জিয়ার আদর্শে উজ্জীবীত রুবী ছাত্র রাজনীতি করতেন। কর্মজীবনে দেশে ও প্রবাসে দেখিয়েছেন সাংগঠনিক দক্ষতা। ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে তিনি ছিলেন রাজপথে। আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে মামলা খেয়েছেন। কারাবরণ করেছেন। জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী শামীমা আক্তার রুবী বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তির পক্ষে জনমত গঠন করেছেন। প্রবাসীদের সংগঠিত করেছেন। ছুটে গেছেন যুক্তরাজ্য, জাতিসংঘ,ইউরোপিয়ান কমিশন, ইউরোপিয়ান প্রেসক্লাব, জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনসহ নানা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১৭ এবং কুমিল্লা-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন। রয়েছেন লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত। তার বহু কবিতা-গান ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। জাতীয়তাবাদী মহিলা দল, ফ্রান্স শাখার সহ-সভাপতি শামীমা আক্তার রুবী জাতীয়তাবাদী মহিলা দল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছে মুরাদনগর উপজেলার রাজা চাপিতলা গ্রামের কৃতি সন্তান রুবীর নাম।

 

এ ছাড়া কুমিল্লার সামিরা আজিম দোলা, সুফিয়া বেগম, শাহনাজ আক্তার, সাকিনা বেগম, সাবেরা আলাউদ্দিনের নামও রয়েছে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায়।

 

সুফিয়া বেগম দেবীদ্বার উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। পেশায় শিক্ষক দায়িত্ব পালন করেছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। অ্যাডভোকেট সাবেরা আল্লাউদ্দিন হেনা কেন্দ্রীয় মহিলা দল ও বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি হামলা-মামলার শিকার হন।

Advertisement

প্রতিটি উপজেলায় সংবাদদাতা আবশ্যক। যোগাযোগ ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে কুমিল্লা-৯ আসন (লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ) থেকে প্রার্থী ছিলেন সামিরা আজিম দোলা। বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পাওয়ায় আশাহত দোলা স্বতন্ত্র প্রার্থী ( বিদ্রোহী) হিসেবে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। পরে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো: আবুল কালামকে সমর্থন জানিয়ে তিনি সরে দাঁড়ান। কুমিল্লার একাধিক বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। এই প্রতিদানস্বরূপ তাকে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে-মর্মে স্থানীয়ভাবে জোর আলোচনা রয়েছে।