(ভিডিও)ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর রাষ্ট্রপতি হতে চেয়েছিলেন মইন উ আহমেদ!

SHARE

মইন উ আহমেদ, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। ফাইল ছবি

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ  ২৪.ম,বিশেষ প্রতিনিধি সবার দেশ পত্রিকার সৌজন্যে ,রোববার   ২৯ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১৬ ১৪৩২ || ৯ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি :

২০০৭ সালের এক-এগারো-পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে জিজ্ঞাসাবাদে। পল্টন থানার একটি মামলায় রিমান্ডে থাকা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী গোয়েন্দা পুলিশের কাছে এ তথ্য দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

Advertisement

অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————

জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেন, সেনাশাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শেষ পর্যায়ে মইন উ আহমেদ রাষ্ট্রপতি হয়ে বঙ্গভবন-এ বসবাসের লক্ষ্য নিয়ে গোপনে নানা উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত নানা বাধা ও পরিস্থিতির কারণে সে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, মইন উ আহমেদের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে তাকে সেনাবাহিনী থেকে কার্যত সরিয়ে দেয়া হয়। ২০০৮ সালে তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয় এবং পরে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে নিয়োগ দেয়া হয়।

এদিকে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কারা অধিদফতরের দায়িত্বে থাকা মেজর শামসুল হায়দার ছিদ্দিকী জানিয়েছেন, তিনি এক পর্যায়ে জানতে পারেন মইন উ আহমেদ রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে এগোচ্ছেন। বিষয়টি তিনি কারাবন্দি দুই শীর্ষ নেত্রী—খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনা—কে অবহিত করেছিলেন।

প্রতিক্রিয়ায় খালেদা জিয়া নাকি বলেছিলেন, ‘দেশের জন্য ভালো হলে আপত্তি নেই, তবে তা হতে হবে নিয়ম মেনে।’ অন্যদিকে শেখ হাসিনা বিষয়টিতে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান বলে দাবি করা হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, এক-এগারো সরকারের কুশীলবদের অন্যতম ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। সেনাশাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুর্নীতি-অনিয়ম দূর করতে গুরুতর অপরাধ দমন সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করলে প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পান মাসুদ উদ্দিন। এতে অগাধ ক্ষমতাধরে পরিণত হন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। ওই সময় ক্ষমতার ভাগাভাগিসহ নানা ইস্যুতে সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর। যে কারণে ২০০৮ সালের ৮ জুন তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। এরপর একই বছর ২ সেপ্টেম্বর তাকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করা হয়। ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর তিনি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে কার্যত সেনাবাহিনী থেকে তাকে বের করে দেন মইন উ আহমেদ। এ বিষয়ে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী গোয়েন্দা পুলিশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। কী কী বিষয় নিয়ে মইন উ আহমেদের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়- এ বিষয়েও তথ্য দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

Advertisement

প্রতিটি উপজেলায় সংবাদদাতা আবশ্যক। যোগাযোগ ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫

একাধিক সূত্র বলেছে, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের বছরখানেক পরই মইন উ আহমেদকে ভারত সফরে আমন্ত্রণ জানায় নয়াদিল্লি। এরপর ২০০৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ছয় দিনের সফরে ভারতের নয়াদিল্লি যান তিনি। ওই সফরে সেনাপ্রধানের একমাত্র সফরসঙ্গী ছিলেন তৎকালীন স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সৈয়দ ফাতেমী আহমেদ রুমী। ওই সফরে তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রপ্রধানের প্রটোকলও দেয়া হয়। সে সঙ্গে উপহার হিসেবে দেয়া হয় জার্মান হ্যানোভারিয়ান জাতের ছয়টি ঘোড়া। এতে মইন উ আহমেদের রাষ্ট্রপতি হওয়ার খবর আরও জোরালোভাবে প্রচারিত হয়। এ সফরে মইন উ আহমেদের সঙ্গে ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জী এবং দেশটির সেনাপ্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বৈঠক হয়। যেসব বৈঠকে বেশকিছু ইস্যুতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির অনেক কিছুর গতিপথ নির্ধারণ হয় বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে এসব বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।

মইন উ আহমেদ, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। ফাইল ছবি