ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ,শুক্রবার ২৭ মার্চ ২০২৬ || চৈত্র ১৪ ১৪৩২ || ৭ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজর
যুদ্ধের উত্তেজনার মাঝেই হঠাৎ কৌশল বদল যুক্তরাষ্ট্রের। ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার হুমকি থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা আবারও পিছিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আলোচনায় অগ্রগতির দাবি তুলে নেয়া এই সিদ্ধান্তে সংঘাত কমার সম্ভাবনা যেমন তৈরি হয়েছে, তেমনি নতুন করে অনিশ্চয়তাও বাড়িয়েছে।
Advertisement
অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা পিছিয়ে দিয়েছেন। চলমান যুদ্ধ বন্ধে আলোচনায় অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত হামলা স্থগিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দেয়া ঘোষণায় তিনি জানান, ইরানের অনুরোধে বিদ্যুৎ স্থাপনা ধ্বংসের সময়সীমা ১০ দিন বাড়ানো হয়েছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আলোচনা চলছে এবং ভুয়া সংবাদমাধ্যম যা বলছে তার বিপরীতে, আলোচনা খুব ভালোভাবেই এগোচ্ছে।’
এর আগে গত রোববার ট্রাম্প হুমকি দেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলা চালানো হবে। তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ স্থাপনাটি দিয়েই হামলা শুরু করা হবে। এরপর সোমবার তিনি জানান, ‘ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা’ হওয়ায় হামলা আরও পাঁচ দিন পিছিয়ে দেয়া হচ্ছে। যদিও ইরান এমন কোনও আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে।
বৃহস্পতিবারের সিদ্ধান্তটি এই নিয়ে দ্বিতীয়বার সময়সীমা বাড়ানো। অবশ্য গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে ইরানে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে তা আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচনার মুখে পড়তে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞরা শুরু থেকেই ইরানের ওপর হামলাকে উসকানিবিহীন আগ্রাসন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত করা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধে এমন স্থাপনায় হামলার প্রবণতা বেড়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলাকে দেশটির সামরিক শিল্পব্যবস্থাকে দুর্বল করার কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। তবুও এসব হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ট্রাম্পের ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র বোমা হামলার পরিকল্পনাকে ‘যুদ্ধাপরাধের হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এদিকে ইরান যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনও স্পষ্ট লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না। এরই মধ্যে ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। কিন্তু তেলবাহী জাহাজের ওপর হুমকির কারণে সেখানে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোর কাছে প্রণালিটি পুনরায় চালু করতে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ন্যাটোসহ অন্যান্য অংশীদারদের কাছ থেকে তিনি এখনও কোনও সহায়তা পাননি।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যুদ্ধ শেষ করতে ‘সমঝোতার জন্য অনুরোধ করছে’, যদিও একই সময়ে অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও মিত্রদের ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, ‘তারা বলবে, আমরা আলোচনা করছি না। কিন্তু তারা আসলে আলোচনা করছে। তারা বিপর্যস্ত— কে-ই বা আলোচনা করবে না?’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস ইরানের বিরুদ্ধে স্থল অভিযান চালানোর বিষয়টিও বিবেচনা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ নিলে সংঘাত আরও বাড়তে পারে।
এ পর্যন্ত ইরানে প্রায় ১ হাজার ৯৩৭ জন নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ জন সামরিক সদস্যও নিহত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় আরও বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
Advertisement
প্রতিটি উপজেলায় সংবাদদাতা আবশ্যক। যোগাযোগ ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫

তবে ইরান বলেছে, কোনও আলোচনাই চলছে না। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও জোরালো হামলা চালানো হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ফাইল ছবি)


