
কুয়েত সিটিতে মার্কিন দূতাবাস এলাকায় ইরানের হামলার ঘটনায় ধোঁয়া উড়তে দেখা যাচ্ছে। গত ২ মার্চের ছবি। ছবি: সংগৃহীত
ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি,সোমবার ০৯ মার্চ ২০২৬ || ফাল্গুন ২৪ ১৪৩২ || ১৯ রমজান ১৪৪৭ হিজরি :
ইরানের সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সৌদি আরব। রিয়াদ বলেছে, এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়বে ইরানই। একই সময়ে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস অপ্রয়োজনীয় কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের ‘জঘন্য’ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এসব হামলা শুধু সৌদি আরব নয়, উপসাগরীয়, আরব ও ইসলামিক অন্যান্য দেশগুলোকেও লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাসহ বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো থেকে স্পষ্ট যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলাই এর উদ্দেশ্য। এটি আন্তর্জাতিক সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
ইরান হামলার যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তাও নাকচ করেছে সৌদি আরব। তেহরান দাবি করেছিল, সৌদি ভূখণ্ড থেকে যুদ্ধের জন্য যুদ্ধবিমান ও জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান পরিচালনার অনুমতি দেয়া হয়েছিল। এই দাবি মিথ্যা বলে জানিয়েছে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা বলেছে, সংশ্লিষ্ট বিমানগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সৌদি আরব এবং গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) অঞ্চলের আকাশসীমা রক্ষায় টহল দিচ্ছিল।
মন্ত্রণালয় আরও সতর্ক করে বলেছে, ইরান যদি হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে তা উত্তেজনা আরও বাড়াবে এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই, আমাদের দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের বর্তমান কর্মকাণ্ডে প্রজ্ঞার প্রতিফলন নেই এবং এটি উত্তেজনার চক্র বিস্তার ঠেকানোর কোনো আগ্রহও দেখায় না। এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়বে ইরানই।’
এদিকে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে রিয়াদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস অপ্রয়োজনীয় সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। কূটনৈতিক মিশনটি জানিয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই নির্দেশ দিয়েছে।
মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর সৌদি আরবে এই প্রথম বাধ্যতামূলকভাবে কর্মীদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হলো।
এদিকে সৌদি আরবের ওপর ইরানের হামলার মাত্রাও বেড়েছে।
Advertisement
প্রতিটি উপজেলায় সংবাদদাতা আবশ্যক। যোগাযোগ ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫

এর আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, আল খারজ এলাকায় আবাসিক ভবনে একটি প্রজেক্টাইল পড়ে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে রাজধানী, একটি বিমানঘাঁটি এবং একটি তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।



