(ভিডিও)লিবিয়ায় বাড়ির ভেতরে কীভাবে খুন হলেন গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল–ইসলাম

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.ম,আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি,বুধবার   ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২১ ১৪৩২ :

লিবিয়ার প্রয়াত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির সবচেয়ে প্রভাবশালী ছেলে সাইফ আল-ইসলামের ওপর চার বন্দুকধারী হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যা করেছেন। ৫৩ বছর বয়সী সাইফ রাজধানী ত্রিপোলি থেকে ১৩৬ কিলোমিটার (৮৫ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত জিনতান শহরে নিহত হন।

Advertisement

Advertisement

অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————

গাদ্দাফি পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র সৌদি আরবের মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম আল–আরাবিয়াকে জানায়, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হামলাকারীরা সাইফ আল-ইসলামের বাসভবনের বাগানে তাঁকে গুলি করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

আল–আরাবিয়ার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বন্দুকধারীরা হামলা চালানোর আগে গাদ্দাফির বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরাগুলো অকেজো করে দিয়েছিলেন। তারপর বন্দুকধারীরা তাঁর মুখোমুখি হন এবং তাঁকে গুলি করেন। স্থানীয় সময় গভীর রাতে তিনি নিহত হন।

সাইফ আল–ইসলামের প্রাণহানির ঘটনায় এখনো বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি। তবে সাইফ আল-গাদ্দাফির একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী একে একটি ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

সাইফ আল–ইসলামের রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের একজন আবদুল্লাহ ওসমান ফেসবুকে এক পোস্টে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমরা আল্লাহর এবং তাঁর কাছেই ফিরে যাব। মুজাহিদ সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি আল্লাহর হেফাজতে আছেন।’

আবদুল্লাহ ওসমান ২০২০-২১ সালে রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।

সাইফ আল-ইসলামের জীবন নাটকীয়তায় ভরা। বাবা মুয়াম্মার গাদ্দাফির উত্তরসূরি ভাবা হতো তাঁকে। লিবিয়ার ক্ষমতা থেকে তাঁর বাবা উৎখাত হওয়ার পর এক দশকের বন্দিজীবন, প্রত্যন্ত এক পাহাড়ি শহরে অজ্ঞাতবাস, লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা—যা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছিল।

কোনো আনুষ্ঠানিক পদ না থাকা সত্ত্বেও চার দশকের বেশি সময় লিবিয়া শাসন করা তাঁর বাবা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পরে তাঁকেই দেশটির সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি মনে করা হতো।

বাবা গাদ্দাফি ক্ষমতায় থাকাকালে সাইফ আল-ইসলাম লিবিয়ার রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখতেন। গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত হতো। তিনি লিবিয়ার গণবিধ্বংসী অস্ত্র ত্যাগের আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৯৮৮ সালে স্কটল্যান্ডের লকার্বিতে প্যান অ্যাম ফ্লাইট ১০৩ বোমা হামলায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়েও তিনিই আলোচনা করেছিলেন।

লিবিয়াকে বিশ্ব থেকে একঘরে অবস্থা থেকে মুক্ত করতে সংকল্পবদ্ধ সাইফ আল-ইসলাম পশ্চিমাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করেছিলেন। তিনি নিজেকে একজন সংস্কারক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করতেন। সংবিধান প্রণয়ন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে অন্যদের প্রতি আহ্বান জানাতেন।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসে পড়াশোনা করা এবং ইংরেজিতে সাবলীল কথা বলতে পারায় অনেক দেশের সরকার তাঁকে লিবিয়ার গ্রহণযোগ্য এবং পশ্চিমাবান্ধব মুখ হিসেবে দেখত।

২০১১ সালে যখন সাইফের বাবার দীর্ঘ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়, তখন তিনি তাঁর অনেক বন্ধুত্ব বিসর্জন দিয়ে পরিবার ও বংশের প্রতি অনুগত থাকাকেই বেছে নেন। বিদ্রোহীদের তিনি ‘ইঁদুর’ বলে সম্বোধন করেন এবং তাঁদের দমনে কঠোর অভিযানের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী হয়ে ওঠেন।

বিদ্রোহের সময় বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা লিবিয়াতেই লড়াই করব, লিবিয়াতেই মরব।’

বিদ্রোহীরা রাজধানী ত্রিপোলি দখল করার পর সাইফ আল-ইসলাম বেদুইন উপজাতির ছদ্মবেশে প্রতিবেশী দেশ নাইজারে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তার বাবাকে বিদ্রোহীরা খুঁজে বের করে গুলি করে হত্যার প্রায় এক মাস পর, ‘আবু বকর সাদিক ব্রিগেড’ নামের একটি মিলিশিয়া বাহিনী মরুভূমির রাস্তা থেকে তাঁকে বন্দী করে পশ্চিমের শহর জিনতানে নিয়ে যায়।

পরের ছয় বছর সাইফ আল–ইসলাম গাদ্দাফি জিনতানে বন্দী ছিলেন, যা তাঁর বাবা গাদ্দাফির আমলের বিলাসবহুল জীবন থেকে ছিল একেবারেই ভিন্ন। সে সময় তাঁর পোষা বাঘ ছিল, তিনি বাজপাখি দিয়ে শিকার করতেন এবং লন্ডন সফরের সময় যুক্তরাজ্যের উচ্চবিত্ত সমাজের সঙ্গে মেলামেশা করতেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) জিনতানে সাইফের সঙ্গে দেখা করেছিল। সেই সময় তাঁর একটি দাঁত ভাঙা ছিল। সাইফ তাঁদের জানিয়েছিলেন, তিনি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন। তাঁকে কারো সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয় না।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে ২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত সাইফ আল-ইসলামকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায় দেন ।

পরে ২০১৭ সালে সাধারণ ক্ষমা আইনের আওতায় মিলিশিয়াদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর প্রাণহানির আশঙ্কা থেকে জিনতানে কয়েক বছর আত্মগোপনে ছিলেন।

২০২১ সালে লিবিয়ার ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও পাগড়ি পরে সাইফ আল–ইসলাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দিতে লিবিয়ার দক্ষিণের শহর সাভায় নির্বাচনী কার্যালয়ে উপস্থিত হন।

আশা করা হয়েছিল, ২০১১ সালে ন্যাটোর সহায়তায় হওয়া যে বিদ্রোহ তাঁর বাবাকে ক্ষমতাচ্যুত এবং দেশকে অস্থিতিশীলতায় নিমজ্জিত করেছিল, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি জনগণের সমর্থন আদায় করে নেবেন।

তবে সাইফের প্রার্থিতা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। তাঁর বাবা মুয়াম্মার গাদ্দাফির শাসনামলে যাঁরা নির্যাতিত হয়েছিলেন, তাঁরা সাইফের প্রার্থিতার তীব্র বিরোধিতা করেন। ২০১১ সালের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো থেকে গড়ে ওঠা শক্তিশালী সশস্ত্র দলগুলোও তাঁর প্রার্থিতাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে।

Advertisement

প্রতিটি উপজেলায় সংবাদদাতা আবশ্যক। যোগাযোগ ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫

২০২১ সালের শেষ দিকে নির্বাচনের নিয়মাবলি নিয়ে কোনো ঐকমত্য না হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়েছিল। তখন সাইফ আল-ইসলামের প্রার্থিতা অন্যতম প্রধান বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ২০১৫ সালের দণ্ডাদেশের কারণে তাঁকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল।

সাইফ এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার চেষ্টা করলে লিবিয়ার যোদ্ধারা আদালত ঘেরাও করে ফেলেন। এই ধারাবাহিক বিবাদ শেষ পর্যন্ত নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে পুরোপুরি ধসিয়ে দেয় এবং লিবিয়া আবার রাজনৈতিক অচলাবস্থায় ফিরে যায়।